দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, ২০২২ সালের জুনের মধ্যে পুরান ঢাকার রাসায়নিক কারখানাগুলো মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে এবং ২০২০ সালের জুনের মধ্যে গুদামগুলো কদমতলী ও টঙ্গীতে স্থানান্তর করা হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি সিদ্ধান্ত দিলেই তাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা ও বনানীতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
রাসায়নিক কারখানা স্থানান্তর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে সব সময় একটি অপবাদ আমরা শুনি যে দুর্ঘটনা ঘটলে একটু নড়াচড়া করি তারপর থেমে যাই। এই অপবাদ ঘোচানোর জন্যই কমিটির সভা করেছি।’ গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় অগ্নিদুর্ঘটনার পর যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ড. এনাম বলেন, ‘নিমতলীর ঘটনার পর কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, সে অনুযায়ী তারা ভাড়ায় নেবে। এ কাজগুলো ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে সমাপ্ত হবে এবং তাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর ফলে ঢাকাবাসী আরেকটি বিপদ থেকে উদ্ধার পাবে, আরেকটি ঝুঁকি থেকে রেহাই পাবে।’ পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক কারখানার তালিকা তৈরি হলেও এটি এখনো তাদের হাতে আসেনি বলে জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের পর পানি সরবরাহের সমস্যা প্রসঙ্গে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যতবারই অগ্নিকাণ্ড ঘটে, ততবারই পানি সরবরাহে বাধার সম্মুখীন হই। পৃথিবীর সব দেশে আমরা দেখেছি অগ্নিকাণ্ডের পানি সরবরাহের জন্য রাস্তার দুই ধারে ওয়াটার হাইড্রেন্ট থাকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলেছে, ওয়াটার হাইড্রেন্ট স্থাপনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বৈঠকে এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।’
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. এনাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যা সিদ্ধান্ত দেবেন তা-ই হবে। ভাসানচরের অবকাঠামো শক্তিশালী। ঘরগুলো দুর্যোগ সহনীয়। সেখানে ১২০টি সাইক্লোন শেল্টার, হাসপাতাল, বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ডেইরি ফার্ম করা হয়েছে। সব দিক থেকে ভাসানচর বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের তিন উপজেলায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষাকাল এলে আমরা খুব চিন্তায় থাকি। রোহিঙ্গারা পাহাড় ও গাছ কেটে ফেলেছে, শুধু মাটি দেখা যায়। ভূমিধস হতে পারে। এ জন্য আমরা একটি মহড়া করেছি। পাহাড় ধ্বংস না করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় কাজ চলমান রয়েছে।’ দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল ছাড়াও ২২টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।