সিগারেটের ধোঁয়া হাঁপানির কষ্ট সাংঘাতিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। শুধু হাঁপানিই নয়, ফুসফুস ও শ্বাসনালি সংক্রান্ত অনেক অসুখের অন্যতম কারণ ধূমপান।
যেখানে ধূমপায়ী আছে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ পরোক্ষ ধূমপানও হাঁপানির কষ্ট অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
ঘরের পরিচ্ছন্নতা
ঘরে কার্পেট রাখবেন না। এতে প্রচুর ধুলা জমে। ঘরে অতিরিক্ত চেয়ার, কুশন ও বাড়তি বালিশ রাখবেন না। পরিষ্কার ও খোলা হাওয়ার জন্য জানালা খোলা রাখুন! তবে যদি বাইরে গাড়ির ধোঁয়া, ফ্যাক্টরির দূষণ, ধুলো বা ফুল ও গাছের রেণু বেশি থাকে, তখন জানালা বন্ধ রাখুন।
ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম করা খুব জরুরি। তবে একটা ব্যাপার বুলে গেলে চলবে না, বেশি ব্যায়ামের জন্য যেন হাঁপানির টান না ওঠে। হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো কিন্তু হাঁপানি রোগীদের পক্ষে ভালো ব্যায়াম। প্রাণায়াম জাতীয় গভীর শ্বাস নেওয়ার আসনও উপকারী। বাচ্চাদের খেলাধুলার সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে কোনো অসুবিধা বা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কি না।
টেনশনমুক্ত থাকা
কোনো কারণে ভয় পেলে, মানসিক উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা শোক পেলেও হাঁপানির টান হতে পারে। তাই মনটাকে রাখতে হবে টেনশন ফ্রি, শরীর-মন শিথিল করে দেওয়া রপ্ত করতে হবে।
পানি ঘাটতি
হাঁপানি চিকিৎসা চলাকালীন রোগীকে প্রচুর পরিমাণ জল খেতে দিন। কারণ শরীরে জলের ঘাটতি থাকলে হাঁপানির ওষুধ কাজ করে না। এছাড়া জলের অভাবে কফ জমে যায় ও সহজে বেরোতে পারে না, ফলে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়।
খাওয়া-দাওয়া
বেশি রাতে ভরপেট খেলে টান উঠতে পারে। তাই রাতে পেট ভরে ভুলেও খাবেন না। হাঁপানি রুখতে নিয়ম করে হাতে কিছুটা সময় নিয়ে খেতে হবে, অকারণে তাড়াহুড়া করা চলবে না, ঝাল মসলাদার খাবারের বদলে হালকা রান্না করা বাড়ির খাবার খাওয়াই বাঞ্ছনীয়। ফ্রিজ থেকে বের করে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জিনিস খাওয়া উচিত নয়। রুম টেম্পারেচারে এলে তবেই খাবেন, কোল্ড ড্রিঙ্কস বা ফ্রিজের জল প্রচ- গরমেও খাওয়া উচিত নয়।
ঘরের তাপমাত্রা
শীতকালে ঘর গরম রাখতে পারলে ভালো হয়। তাপানুকূল ঘরের বাইরে বারবার যাতায়াত করা উচিত নয়। যন্ত্রের হাওয়াটা যেন সোজাসুজি গায়ে এসে না লাগে এটাও দেখা প্রয়োজন। এছাড়াও হাঁপানি রোগীর অনুপস্থিতিতে কয়েকটি কাজ সেরে রাখুন। ঘরদোর মুছে ভ্যাকুয়াম করে বা ঝাঁট দিয়ে রাখুন, পোকামাকড়ের জন্য স্প্রে করুন, কড়া গন্ধযুক্ত রান্নাবান্না সেরে রাখুন, ঘরে ফেরার আগে হাওয়া খেলতে দিন। অবশ্যই আপনার নিকটস্থ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।