বিলুপ্তির পথে হাঁটছে তাঁত শিল্প। বর্তমানে দেশজুড়ে আছে ১ লাখ ১৬ হাজার ১১৭টি তাঁত ইউনিট। ২০০৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২। অর্থাৎ এই সময়ে ইউনিট সংখ্যা কমেছে ৬৭ হাজার ৩৯৫টি। ১৯৯০ সালে তাঁত ইউনিট ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৪২১টি।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ‘তাঁতশুমারি ২০১৮’-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আগারগাঁও বিবিএস অডিটোরিয়ামে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৯০ সাল থেকেই কমছে তাঁত ইউনিট ও জনবল সংখ্যা। বর্তমানে তাঁত ইউনিটে মাত্র ৩ লাখ ১৬ হাজার ৩১৫ জন কর্মরত। ২০০৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৮৮ হাজার ১১৫ ও ১৯৯০ সালে ১০ লাখ ২৭ হাজার ৪০৭।
প্রতিবেদনে এ শিল্পের শ্রমশক্তি কমার কারণ হিসেবে তাঁত ইউনিটে কম আয়, হস্তশিল্প থেকে যান্ত্রিক শিল্পের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, শ্রমিকের অভাব, বাজারজাতকরণ সমস্যাসহ নানা কারণকে তুলে ধরা হয়।
তাঁতশুমারি প্রকল্পের পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিবিএস দেশব্যাপী ১৯৯০ ও ২০০৩ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় তাঁতশুমারি পরিচালনা করে। সরকার গত বছর তৃতীয়বারের মতো তাঁতশুমারি পরিচালনা করে। এর প্রধান অংশীজন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিবিএস সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী বলেন, অ্যালোকেশন অব বিজনেস এবং পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ পরিচালনা করে থাকে। বিবিএসের তৃতীয় ‘তাঁতশুমারি ২০১৮’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অংশীজনরা এ খাতের সামগ্রিক চিত্র পেতে সক্ষম হবে।
বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় তাঁত শিল্পে নারীশ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে তাঁত শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে। এ দুই বিভাগে দেশের মোট তাঁত ইউনিট ৭৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। আর শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগে এ হার ৫৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। শহরের চেয়ে পল্লী এলাকায় তাঁত ইউনিটের সংখ্যা অনেক বেশি। এ সংখ্যা পল্লীতে প্রায় ৮৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও শহর এলাকায় মাত্র ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গুলনার নাজমুন নাহারসহ উপস্থিত ছিলেন বিবিএস মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন।