দুদকের ‘ক্যানসার’ কেটে ফেলা উচিত : হাইকোর্ট

দুর্নীতিবাজদের ‘ক্যানসার’ আখ্যায়িত করে হাইকোর্ট বলেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত এই ক্যানসার কেটে ফেলা উচিত। সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় ‘ভুল’ আসামি জাহালমের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুলের শুনানিকালে গতকাল বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

নিরপরাধ জাহালমের কারাবাসে কারা দায়ী সে বিষয়ে দুদকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১১ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের দিন ঠিক করে হাইকোর্ট।

সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতির হোতা ৩৩ মামলার আসামি আবু সালেকের পরিবর্তে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ধুবুড়িয়া গ্রামের নিরপরাধ জাহালমকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে ২৬ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি গত ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট জাহালমকে তাৎক্ষণিক কারামুক্তির নির্দেশ দিলে ওই দিন রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। জাহালমের বিষয়টি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী   অমিত দাসগুপ্তও উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে হাইকোর্ট বলে, ‘দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এটিকে আমরা আরও স্বচ্ছ দেখতে চাই। দুর্নীতিবাজদের জায়গা এটি নয়। দুদক থেকে দুর্নীতিবাজ ক্যানসারদের বাদ দেওয়া উচিত। যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের পুরস্কৃত করা উচিত। তারা (দুদক) আরও শক্তিশালী হোক, সেটিই আমরা চাই।’ আদালত আরও বলে, ‘বাংলাদেশ এখন অর্থনীতিতে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এখন আর্থিক অপরাধ বাড়বে। তাই দুদক থেকে ক্যানসার কেটে ফেলা উচিত।’