চলে গেলেন সমাজকর্মী ঝর্ণা ধারা চৌধুরী

সমাজকর্মী ও নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আর নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। সমাজসেবায় অবদানের জন্য ঝর্ণা ধারা চৌধুরী একুশে পদক ও ভারতের পদ্মশ্রীসহ নানা সম্মাননা অর্জন করেন।

গান্ধী আশ্রমের পরিচালক রাহা নব কুমার জানান, ঝর্ণা ধারা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১ জুন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার হাসপাতালেই তার মস্তিষ্কে দ্বিতীয়বারের মতো রক্তক্ষরণ হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। গতকাল চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঝর্ণা ধারা চৌধুরীর মরদেহ গতকাল দুপুরে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। সেখানে ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয় মরদেহ।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই সমাজকর্মীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে, তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল গান্ধী আশ্রমে। সহকর্মীরা সেখানে তাকে শেষ বিদায় জানাবেন।

মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করা এই নারী মরণোত্তর দেহ দান করে গেছেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ সন্ধানীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান গান্ধী আশ্রমের সভাপতি স্বদেশ রায়।

১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন ঝর্ণা ধারা চৌধুরী। তিনি গান্ধীবাদের দীক্ষা পান পরিবার থেকেই। ১৯৫৬ সালে যোগ দেন গান্ধীর প্রতিষ্ঠিত অম্বিকা কালিগঙ্গা চ্যারিটেবল ট্রাস্টে। সেটাই এখন গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট নামে পরিচিত।

১৯৬০ সালে চট্টগ্রামের প্রবর্তক সংঘে যোগ দেন ঝর্ণা ধারা। সমাজকর্মের পাশাপাশি পড়ালেখাও চালিয়ে যান। চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলায় ত্রাণকাজে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ফিরে যান গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টে। মহাত্মা গান্ধীর সহচর চারু চৌধুরী ১৯৯০ সালে মারা গেলে ট্রাস্টের সচিবের দায়িত্ব পান ঝর্ণা ধারা। আমৃত্যু তিনি সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত হন এই সমাজসেবী। বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালে তাকে একুশে পদক ও বেগম রোকেয়া পদক দেয়।