আর্থিক বিষয় এবং কার্যক্রমের দিক থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করে দাবি করলেও সক্ষমতার কিছুটা অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘দুদকের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করে না। করার কোনো সুযোগও নেই। আইনের বলেই দুদক সকল প্রকার চাপের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করে।’ সক্ষমতা বাড়াতে দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন চেয়ারম্যান। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ডিভিশনাল চিফ ডিশাকু কাইরার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিরি জনস ও অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ইমাম হাসান।
এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুদক সরকারের তরফ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা পাচ্ছে। যদিও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর এনফোর্সমেন্ট টিম তৈরি করতে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। সেগুলো দূর করে কমিশন একটি কার্যকর এনফোর্সমেন্ট ইউনিট গঠনের জন্য আইন প্রণয়ন করছে।’
প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুদক অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সরকারি কার্যপদ্ধতির রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিতে কাজ করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবায় সংস্কারের জন্য সুপারিশমালা তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠাচ্ছে। সরকারও এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
দুদক চেয়ারম্যান জানান, গণসচেতনতা বিকাশে কমিশন সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে। এছাড়া প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ গঠন করেছে, স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছে। দেশের প্রায় ২০০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর (বিক্রেতাবিহীন দোকান) চালু করা হয়েছে।