ফেসবুকভিত্তিক ০০৭ নামের একটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ)কে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বরগুনার কলেজ রোড এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। এই গ্রুপটির নামকরণ করা হয়েছিল জেমস বন্ড সিরিজের ০০৭ নামের সঙ্গে মিল রেখে। বন্ড গ্রুপের প্রধান নয়ন বন্ড এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরাজী গ্রুপটি পরিচালনা করত।
ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের নির্দেশনা সংবলিত কয়েকটি স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, রিফাত ফরাজী আগের দিন রাত ৮টার দিকে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের সরকারি কলেজের সামনে থাকার নির্দেশ দেয়। এ সময় নামের প্রথমে মোহাম্মাদ লেখা একজন ও সাগর নামের আরেকজন জানতে চায় তারা কোথায় থাকবে। রিফাত
ফরাজী তাদের বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সকাল ৯টায় থাকতে বলে। রিফাত গ্রুপে দায়ের ছবি দিয়ে বলে, ‘পারলে এইটা নিয়া থাইকো।’ মোহাম্মাদ জবাবে দা নিয়ে থাকব বলে জানায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ০০৭ নামের একটি গ্রুপ কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজি স্কুল ও ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকায় তা-ব চালিয়ে আসছে। গ্রুপের সদস্যরা ০০৭ কে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করত। নয়নের মোটরসাইকেলের গায়ে ও বাড়ির দেয়ালে ০০৭ বন্ড লেখা থাকত। ছিনতাই, ছাত্রদের মুঠোফোন জিম্মি করে টাকা আদায়, ছোটখাটো মারধর থেকে তার অপরাধ প্রবণতা শুরু হলেও ২০১৭ সালে পুলিশি অভিযানে নয়নের কলেজ রোডের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ তাকে আটক করে পুলিশ। এরপরই নয়ন নামটি আলোচনায় চলে আসে। ওই মামলায় জামিনে আসার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে নয়ন। এরপর সে নিয়মিত মাদকব্যবসায় জড়িয়ে যায় এবং রিফাত ফরাজীকে সঙ্গে নিয়ে ০০৭ নামের একটি গ্রুপ তৈরি করে। ওই গ্রুপে নয়নের সহযোগী হিসেবে বরগুনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি সড়কের দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে রিফাত ফরাজী ও তার ছোটভাই রিশান ফরাজী কাজ করত।
নয়নের নেতৃত্বে ০০৭ গ্রুপটি ফিল্মি স্টাইলে বরগুনা শহরজুড়ে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে। চুরি, ছিনতাই, লুটপাট, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে নয়নের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় আটটি মামলা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা সরকারি কলেজের কয়েক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, নয়ন ও তার বাহিনীর অপকর্মে তারা দিশেহারা ছিল। ভয়ে রাতে রাস্তায় বের হতে পারত না তারা।
বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, এই হত্যাকারীরা ফেসবুক ব্যবহার করে মিটিং ও হত্যার পরিকল্পনা করেছিলÑ যা আমরা স্ক্রিন শট দেখেই বুঝতে পারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে তারা এই অপকর্ম করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, তদন্তের স্বার্থে গ্রুপের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত এগিয়ে চলছে।