মাত্র ১০০ টাকার বিরোধে পটুয়াখালীর বাউফলের নওমালা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি শুভঙ্কর হালদারকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মইনুল হাসান।
শুক্রবার দুপুরে এসপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে (২১) গত বৃহস্পতিবার রাতে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মিলঘর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে থানা-পুলিশ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আগে তাকে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসপি জানান, গত শনিবার শুভঙ্কর হালদার ও তার লোকজন ১০০ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুলকে মারধর করেন। এর জেরে সাইফুল প্রতিজ্ঞা করেন, তিনি শুভঙ্করকে মারবেন। গত রবিবার দুপুরে সাইফুল তার বাবার মোবাইল দিয়ে ফোন করে শুভঙ্করকে দেখা করতে বলেন। সন্ধ্যায় তারা বাউফলের ছোলাবুনিয়া বাজারে একত্র হন। একপর্যায়ে শুভঙ্করকে নিয়ে সাইফুল আশুরিয়া বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে গোলাবাড়ি এলাকায় যান। সেখানে শুভঙ্করের সঙ্গে থাকা সাইকেলটি বাজারের পাশে বাগানের মধ্যে রাখেন। এরপর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আতোষখালী গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জয়নালের বাড়ির পাশে গোলাবাড়ি খালের পাশে পৌঁছান তারা। রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে শুভঙ্কর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে সাইফুল তাকে পেছন থেকে পিঠে লাথি মারেন। শুভঙ্কর উপুড় হয়ে পড়লে সাইফুল তার পিঠের ওপর উঠে সঙ্গে থাকা রুমাল দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। এতে শুভঙ্করের মৃত্যু হয়। পরে সাইফুল তার কোমরের বেল্ট দিয়ে শুভঙ্করের গলা বেঁধে তাকে পাশের খালের পানিতে ফেলে দেন।
এসপি আরও জানান, শুভঙ্করের বাইসাইকেল ও মোবাইল ফোন গলাচিপা থানার লামনা গ্রামে সাইফুলের খালু রহিম মোল্লার বাড়ি থেকে গতকাল উদ্ধার করা হয়েছে। সাইফুল ঢাকায় রংমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি শুভঙ্করের বাল্যবন্ধু।
গত বুধবার সকালে বাউফলের নওমালা গোলাবাড়ি খাল থেকে পুলিশ শুভঙ্করের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় একই দিনে শুভঙ্করের বাবা সত্য হালদার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। গতকাল আদালতের মাধ্যমে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।