রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করা ছাত্রদল নেতাদের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য। ওই বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘বিক্ষুব্ধরা দলেরই নেতাকর্মী। তাদেরকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। তাদের সমস্যার সমাধান হবে শিগগিরই। আজ-কালের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ঘোষণা করা হবে।’ তিনি জানান, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি কিংবা কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি হতে পারে।
বৈঠক শেষে গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা ছাত্রদল নিয়ে বিএনপির যেসব দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রয়েছেন তারা পালন করবেন। তারাই এর সমাধান নিয়ে আপনাদের জানাবেন।’
এদিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠক যখন চলছিল তখন বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম মাঠে অবস্থান করছিলেন। তারা জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাদের অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তে খুশি তারা।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কাছে তাদের দাবি সংবলিত আবেদন তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে যে কাউন্সিলের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া স্বল্পকালীন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। সেই আহ্বায়ক কমিটি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করে দেবে দলের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এ ছাড়া বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।
২২ জুন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় ১২ ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের জন্য যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল, বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের আন্দোলনের মুখে তা গত বৃহস্পতিবার স্থগিত রাখা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গতকালের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান বৈঠক করেছিলেন। তখন কোনো সমাধান দিতে পারেননি তারা।
‘বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে’ : স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সরকার এবং অস্ত্রের মুখে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। তাই রাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংকট বিরাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘সবাই মনে করে চলমান সংকট থেকে উত্তরণে গণতন্ত্রের জন্য যিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন, সেই খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক কারণে বন্দিদের মুক্তি এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠনই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ।’
বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৈঠকে স্কাইপে সংযুক্ত ছিলেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।