জায়গা নিয়ে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ

হাতিয়ায় একই জমির মালিকানা নিয়ে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, শত বছরের পুরোনো তমরদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় দুটি আলাদা টিন শেড ঘরে তমরদ্দি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাস চলছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জায়গাটি দখলমুক্ত করার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জায়গাটিতে দখল বজায়  রাখার চেষ্টা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তমরদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯৫ সালে নতুন ভবন নির্মাণের পূর্বে পর্যন্ত  পুরোনো গৃহে বিদ্যালয়টির শিক্ষাদান ও দাপ্তরিক কাজ চলছিল। নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হলে পুরোনো ঘরটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ঘরটি মেরামত করে ২০১৪ সালে তমরদ্দি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারি সার্ভেয়ার দুবার ওই জায়গাটির মাপজোখ করলে বিষয়টি নিয়ে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে জায়গা নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।  

তমরদ্দি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৯৩২ সালে আমি তমরদ্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করি। ওই সময় আমি যে ঘরে ক্লাস করতাম সেখানে গত চার বছর ধরে তমরদ্দি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাস চলছে’।

তমরদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোস্তানছের বিল্লাহ গত ১২ জুন বিদ্যালয়ের জায়গাটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসকসহ ৭ কর্মকর্তার নিকট লিখিতভাবে আবেদন করেন।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো ৪০ শতাংশ জায়গা এখন তমরদ্দি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের দখলে রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি হাইস্কুলের দখলে নেওয়া অনৈতিক ও জবরদখল ছাড়া কিছুই নয়’।

এদিকে, তমরদ্দি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জায়গাটি সরকারি খাস জমি হওয়ায় তমরদ্দি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে’।