সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

স্বজনদের অজ্ঞাতে লাখ টাকা মেরে দিলেন চেয়ারম্যান

এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক যুবকের স্বজনদের অজ্ঞাতেই ক্ষতিপূরণ বাবদ গাড়ির মালিকের দেওয়া এক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী সদর উপজেলার পাইকারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে সেই অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আবুল হাসেমের ব্যক্তিগত এক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এম এ হোসেনের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন দুর্ঘটনার অভিযোগে সেই সময় আটক করা গাড়ির মালিক সোনা মিয়া।

তিনি জানান, সে সময় ঋণ করে চেয়ারম্যানের দাবি অনুযায়ী টাকা দিয়েছিলেন। টাকাটা দেওয়ার সময় সন্দেহের বশে ভিডিও করেছিলেন তিনি। সোনা মিয়া বলেন, যে ছেলেটি গাড়ির চাপায় মারা গেছে সে আমার গাড়ির চাপায় মরেনি। দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল একটি লেগুনা। তাৎক্ষণিকভাবে সেটি পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা সন্দেহের বশে মাটি কাটার ট্রাক্টরটি আটক করে। পরে আমি নিহতের বাবা বেনু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টাকাপয়সার কোনো দাবি নেই বলে জানান। তবে ঘটনার দুই দিন পর চেয়ারম্যান আমাকে ডেকে নিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। চেয়ারম্যান তখন জানান, বেনু মিয়া তাকে (চেয়ারম্যান) ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করে দিতে বলেছেন। এরপর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এক লাখ টাকা চেয়ারম্যানের ম্যানেজার এম এ হোসেনের হাতে দিলে আমার গাড়িটি ছাড়ে।

সোনা মিয়া জানান, দিন কয়েক আগে তিনি জানতে পারেন সেই টাকা চেয়ারম্যান নিহতের স্বজনদের দেননি। তিনি নিজেই সব টাকা খেয়ে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে নিহতের বাবা বেনু মিয়া জানান, ক্ষতিপূরণের টাকা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এক বছর আগে ইউনিয়নের কামারচর এলাকায় ছেলে সুমন মিয়া (২০) গাড়িচাপায় নিহত হলেও তিনি ক্ষতিপূরণের কোনো অর্থ দাবি করেননি। চেয়ারম্যান কত টাকা নিয়েছেন সেটাও জানেন না তিনি।

বেনু মিয়া বলেন, আমি চেয়ারম্যানকে কোনো দিন বলিনি গাড়ির মালিকের কাছ থেকে টাকা এনে দেন। আমি গাড়ির মালিককে গাড়ি নিয়ে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যান গাড়ি দিতে দেরি করেছেন। আর টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি এখন জানলাম।

এ প্রসঙ্গে জানতে পাইকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি হাসপাতালে আছেন বলে জানিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন।