সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ছিনতাইকারীদের আঘাতে গুরুতর আহত কিশোর শাহীন মোড়লের লাইফসাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার লাইফসাপোর্ট খুলে নিয়ে শুধু অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ভ্যানটি।
ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউর প্রধান অধ্যাপক ডা. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, শাহীনের অবস্থা আগের থেকে অনেকটা উন্নত। মাথায় আঘাতস্থল থেকে খুলির কিছু অংশ খুলে রাখা হয়েছে। সে আরও সুস্থ হওয়ার পর তা আবার প্রতিস্থাপন করা হবে। তবে তার ব্রেইনের আঘাতের জটিলতা ও টিস্যু ড্যামেজের বিষয়ে পরে বলা যাবে।
এদিকে কেশবপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকালে সন্দেহভাজন হিসেবে উপজেলার বাজিতপুর থেকে নাঈমুল ইসলাম নাঈম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরশাদ পাঁড় ও বাকের আলী নামের অন্য দুজনে আটক করে সাতক্ষীরার পুলিশ। সে সময় শাহীনের ভ্যানটিও উদ্ধার করা হয়।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আহত শাহীনের পরিবারকে আমেরিকাপ্রবাসী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার সময় শাহীনের বাবা হায়দার আলী মোড়লের হাতে ওই প্রবাসীর পক্ষে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের নেতারা ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন।
এদিকে শাহীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বক্তারা এ সময় শাহীনের ওপর এই বর্বর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জোর দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকা থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় শাহীনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। তার ভ্যান ও মুঠোফোনটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় খবর দেয়। চিকিৎসার জন্য তাকে প্রথমে খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।