টেকনাফে আটকের পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইউপি সদস্য নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুল হামিদ (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার মহেশখালীয়াপাড়ার নৌঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল হামিদ মেম্বার স্থানীয় ইউপি সদস্য ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়াপাড়ার মৃত মোহাম্মদ হাসেমের ছেলে।

তার বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা রয়েছে। তিনি একজন চিহ্নিত ডাকাত বলে দাবি করছে পুলিশ।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে টেকনাফ থানা পুলিশের একটি টহলদল দায়িত্ব পালন অবস্থায় টেকনাফ উপজেলার মহেষখালীয়া বাজার থেকে আটক করে। তাকে টেকনাফ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে স্থানীয় নৌ-ঘাটে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদ করে রেখেছেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ওই স্থানে অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা হামিদ মেম্বারের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে এক পর্যায়ে ইয়াবা কারবারিরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি এলজি ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৬ হাজার ইয়াবাসহ হামিদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- এসআই স্বপন চন্দ্র দাশ, এএসআই কাজি সাইফ উদ্দিন ও কনস্টেবল রয়েল বড়ুয়া আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আরও জানান, নিহত আব্দুল হামিদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা কারবারির মধ্যে একজন। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ইয়াবা, ডাকাতি ও হত্যাসহ ১২টি মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ থানায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। হামিদের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।