কক্সবাজারের সাগরতলের রহস্য জানতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে। পর্যটক কক্সবাজার এলেই শহরের প্রাণকেন্দ্র ঝাউতলায় প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম ফিশ অ্যাকুরিয়াম রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে না গিয়ে সাধারণত ফেরেন না। পর্যটকরা মনে করছেন, রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড পর্যটকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সাগরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণী সম্পর্কে জানার শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। পাহাড়, গুহা, সাগরের তলদেশের বৈচিত্র্য, উঁচু-নিচু আর এলোমেলো পথÑ এমন অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ বিনোদনের জন্য দেশে প্রথমবারের মতো গড়ে উঠেছে রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড। এটি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে সংযোজন করেছে বিনোদনের নতুন জগৎ। মালয়েশিয়ার প্রকৌশল সহায়তায় নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের এ অ্যাকুরিয়াম নির্মাণে সময় লেগেছে দুই বছর।
এই অ্যাকুরিয়ামে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য সংরক্ষণসহ অচেনা ও বিলুপ্তপ্রায় অনেক মাছও রয়েছে। অ্যাকুরিয়ামে রাখা হয়েছে সামুদ্রিক শোল মাছ, হাঙর, পিতম্বরী, আউস, শাপলা, পাতা, সাগর কুচিয়া, বোল, পানপাতা, পাঙ্গাশ, চেওয়া, কাছিম, কাঁকড়া, জেলি ফিশসহ অর্ধশতাধিক প্রজাতির মাছ। কিছু বিরল প্রজাতির মাছও এখানে রয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দাবি, দেশে-বিদেশে এ ফিশ অ্যাকুরিয়ামের বার্তা পৌঁছে দিতে পারলে দেশের পর্যটন শিল্পে এটি বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। সাগরের বিলুপ্তপ্রায় মাছ ও বিভিন্ন প্রাণী সংরক্ষণে একটি জাদুঘরও করা হচ্ছে।
সিলেট থেকে আসা পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘আগে অনেকের মুখে শুনেছি এ অ্যাকুরিয়ামের কথা। কিন্তু আজ বাস্তবে দেখলাম। সত্যি সুন্দর, আনন্দিত আমি। পাশাপাশি এখান থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে, যা আমরা আগে জানতাম না।’
ঢাকা থেকে আসা রাহেলা বীথি বলেন, ‘এত মাছ একসঙ্গে কখনো দেখিনি। এখানে অনেক মাছ আছে যা আমরা আগে দেখিনি। একেবারে সাগরের আদলে করা হয়েছে এটি। পাহাড় উঁচু-নিচু পথ আর পানি।’
কক্সবাজার রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য এ অ্যাকুরিয়াম অনেক কিছু। যেভাবে মানুষের সাড়া পাচ্ছি তাতে আশা করছি ভবিষ্যতে দেশের পর্যটন শিল্পে একটা বড় অবদান রাখতে পারব।’