বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড (২৫) পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। পুলিশ বলছে, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার এবং নিজেদের বাহিনীর চার সদস্যের আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। কথিত এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর গতকাল সকালে নয়ন বন্ডের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বেলা ৩টার দিকে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নানাবাড়িতে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
‘বন্দুকযুদ্ধে’ নয়ন বন্ডের নিহতের খবর জানিয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে প্রেস ব্রিফিং করে বরগুনা জেলা পুলিশ প্রশাসন। সেখানে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে সোমবার রাত ৩টার দিকে পুরাকাটা এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। পরে ভোর সোয়া ৪টার দিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে সন্ত্রাসীরা। পুলিশও তখন আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর ওই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এরপর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে নয়ন বন্ডের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের দলটি। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি শটগানের কার্তুজের খোসা এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র।
এই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার পুলিশ সদস্যের আহত হওয়ার কথাও জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। তারা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই হাবিবুর রহমান ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমান। এদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান হোসেন ও এসআই হাবিবুর রহমান গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি দুজনকে বরগুনা পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নয়ন বন্ডের নিহত হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা খবর পাই যে নয়ন বন্ড এবং তার কয়েকজন সহযোগী বুড়িরচর ইউনিয়নের পায়রা নদীর তীরে অবস্থান করছে। সেখান থেকে তারা নৌপথে বরগুনা ত্যাগ করার পরিকল্পনা করছে। এ সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা সেখানে অভিযান চালাই।’ পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম নয়নকে জীবিত ধরতে, তাহলে অন্য আসামিদের ধরতে সুবিধা হতো। তারপরও বাকি আসামিরা আমাদের নজরদারিতে আছে। শিগগিরই সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।’
এদিকে ভোরের বন্দুকযুদ্ধের পর গতকাল সকাল ৭টার দিকে নয়ন বন্ডের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে পুলিশের একটি দল। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে বেলা ৩টার দিকে তার মরদেহ মামা মিজানুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা শহরের কলেজ রোডে বহু পথচারীর উপস্থিতিতে স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একদল যুবক। এ সময় মিন্নি প্রাণপণ চেষ্টা করে হামলাকারীদের বাধা দিলেও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি। রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারী ওই যুবকরা। এমনকি তারা চেহারা লুকানোরও কোনো চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওইদিনই বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিফাত। প্রকাশ্যে জনবহুল সড়কে রিফাতের ওপর নৃশংস ওই হামলার একটি ভিডিও ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
রিফাতকে হত্যার ঘটনায় পরদিন তার বাবা হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় নয়ন বন্ড এবং তার দুই সহযোগী রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় গত সোমবার পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। তার মধ্যে চন্দন (২১), মো. হাসান (১৯), অলিউল্লাহ ওরফে অলি (২২) এবং টিকটক হৃদয় (২১) এজাহারভুক্ত আসামি। অন্য পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো নাজমুল ইসলাম (১৮), সাগর (১৯), তানভীর (২২) এবং কামরুল হাসান ওরফে সাইমুন (২১)। বাকি একজনের নাম পুলিশ জানায়নি। গ্রেপ্তারদের মধ্যে অলিউল্লাহ ওরফে অলি ও তানভীর হোসেন গত সোমবার বিকেলে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
দেশব্যাপী আলোচিত এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেও অন্যতম অন্য দুই আসামি রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজীকে এখনো গ্রেপ্তারের খবর জানাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রিফাত তোমার খুনি বাঁচতে পারে নাই : রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি। নয়ন বন্ডের নিহতের খবর জানার পর গতকাল সকালে বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকায় বাবার বাড়িতে বসে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ এরকম একটি সংবাদ শোনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। রিফাত তুমি কি দেখতে পাও তোমার খুনিরা বাঁচতে পারে নাই। আল্লাহ বাকি যে শয়তানগুলো এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল তাগো সকলের তুমি বিচার করো। আমার রিফাতকে যারা মেরেছে তাদের সবার শাস্তি চাই।’ এসব কথা বলার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মিন্নি।
তিনি আরও বলেন, ‘খুনিরা আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি বারবার চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি। রাস্তায় শতশত মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। যারা আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওরা মানুষ না, ওরা মানুষরূপী পশু। আল্লাহ তোমার কাছে একটাই ফরিয়াদÑ পৃথিবী থেকে এই মানুষরূপী পশুদের তুমি নিয়ে যাও। যাতে আর কোনো স্ত্রীকে চোখের সামনে তার স্বামীকে হারাতে না হয়।’
একটু হলেও রিফাতের আত্মা শান্তি পেয়েছে : ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নয়ন বন্ডের মৃত্যুর খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফও। তবে একই সঙ্গে তিনি রিফাত হত্যা মামলার অন্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নয়নের নিহতের খবর জানার পর গতকাল সকালে দুলাল শরীফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী নয়নের মৃত্যুতে একটু হলেও আমার ছেলে রিফাতের আত্মা শান্তি পেয়েছে। তবে অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নরপশুরা আমার ছেলেকে খুন করে আমাকে পঙ্গু বানিয়ে ফেলেছে। আমি তো আর কোনোদিন আমার ছেলেকে ফিরে পাব না। কিন্তু যদি ওদের সঠিক শাস্তি হয়েছে দেখে যেতে পারি তবে একটু হলেও স্বস্তি পাব। আল্লাহর অশেষ রহমতে পুলিশের আপ্রাণ চেষ্টায় খুনিরা একে একে ধরা পড়ছে।’
রিফাতের মৃত্যুতে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা দুলাল শরীফ। পরে কিছুটা ধাতস্থ হয়ে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে আমার বেঁচে থাকার আর কোনো অবলম্বন নেই। রিফাতের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমি এমনিতেই হৃদরোগাক্রান্ত। বেঁচে থাকার মতো আমার আর কোনো অবলম্বন নাই। সবকিছু শেষ করে দিল মাদকসেবী সন্ত্রাসীরা। রিফাত হত্যায় জড়িত যারা এখন পুলিশ হেফাজতে আছে তাদের সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমি।’
এলাকাবাসীর বাধার আশঙ্কায় নানাবাড়িতে দাফন : এলাকার বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কায় নয়নকে পৌর শহরের ডিকেপি রোডের নিজ বাড়িতে দাফন করা সম্ভব হয়নি। তাকে ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের বুড়িরখাল গ্রামে নানা জয়নাল মৃধার বাড়িতে দাফন করা হয়।
গতকাল বেলা ৩টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে নয়নের লাশ বুঝে নেয় তার মামা মিজানুর রহমান। এরপর নানা বাড়িতে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এ সময় তার মা সাহিদা বেগম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নয়নের মামা মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা লোকমুখে শুনেছি যে এলাকায় (ডিকেপি রোড) ওর লাশ দাফন দিতে দেবে না। তাই কোনোরকমের ঝামেলায় না জড়িয়ে সরাসরি নয়নের নানাবাড়ি মানে আমার বাড়িতে নিয়ে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ও যে কাজ করেছে সেটি নিঃসন্দেহে একটি জঘন্যতম কাজ। যেভাবেই হোক এখন মারা গেছে, আমরা ওর লাশ দাফন দিয়েছি। এখন আল্লাহ ওর যা বিচার তাই করবে।’
এলাকায় নয়নের লাশ দাফন করতে না দেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিকেপি রোডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম নান্না বলেন, ‘এখানে ওর লাশ দাফন না করাই ভালো হয়েছে। এখানে দাফন করতে চাইলে এলাকাবাসী হয়তো সেটার প্রতিবাদ জানাত। ওর মতো একজন খুনি, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীর লাশ এই এলাকায় দাফন হতে পারে না। ওর আত্মীয়-স্বজনরা যা করেছে তা ভালোই করেছে।’
রিফাতের মৃত্যুতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর স্বস্তি প্রকাশ : নয়নের মৃত্যুর সংবাদে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে ডিকেপি রোড, কলেজ রোড, কেজি স্কুল রোড, ধানসিঁড়ি রোড ও ক্রোক এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে। নয়ন দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাগুলোতে যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিল তার মৃত্যুর পর এখন সেই আতঙ্কের অবসান হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে একই সঙ্গে তারা রিফাত হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
ডিকেপি রোডের বাসিন্দা নোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নয়ন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিল। কিন্তু তারপরও তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করার সাহস পায়নি। এলাকার মধ্যে সে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিল। তার মৃত্যুর ফলে এই ভীতিকর পরিবেশের হাত থেকে ডিকেপি রোডের মানুষ মুক্ত হলো।’
ধানসিঁড়ি রোডের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলম বলেন, ‘আমরা ভয়ে মুখ খুলতে পারতাম না। নয়নের মতো উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমরা সাধারণ মানুষ যদি আগে থেকেই এ ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতাম তাহলে হয়তো রিফাতের মতো একটি তাজা প্রাণকে অকালে মরতে হতো না।’
সন্ত্রাসী তৈরি হওয়ার আগেই ধ্বংসের দাবি : নয়নের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে একজন ব্যক্তি সন্ত্রাসীতে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই তাকে ধ্বংসের দাবি জানিয়েছেন বরগুনা শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা। তারা বলছেন, সন্ত্রাসীরা যেভাবে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তা সামাজিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়। শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য চিত্তরঞ্জন শীল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সুফল যেমন রয়েছে তেমনি কুফলও রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সুফল আমাদের যতটা না ধাবিত করে তার চেয়ে শতগুণ দ্রুত কুফল আমাদের ধাবিত করে। আর এর ফলে আমরা ক্রমশ আমাদের হৃদ্যতার সম্পর্কগুলোর কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছি। ভাইয়ে ভাইয়ে দূরত্ব বাড়ছে, মা-বাবার সঙ্গে ছেলেমেয়েদের দূরত্ব বাড়ছে। আর এই দূরত্বের কারণেই আমার ভাই, আমার সন্তান বিপথে চলে যাচ্ছে। কেউ হচ্ছে সন্ত্রাসী, মাদকসেবী আবার কেউ ছিনতাকারী।’
বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ‘আগামীতে আর যাতে কোনো নয়ন জন্ম হতে না পারে এজন্য আমাদের পরিবার থেকে কাজ করতে হবে।’