ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা

হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা স্থগিত

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা পরিপত্রের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। ওই দিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ বিষয়ের ওপর শুনানি হবে।

হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ

দেন চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই পরিপত্রের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করেছিল বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরপর ২৪ জুন সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে এই স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও দুই মাস বৃদ্ধি করে হাইকোর্ট। ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ১০ হাজার ৪৭৬ ঋণখেলাপির তালিকা হাইকোর্টে জমা দেন। হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় চেম্বার আদালতে আবেদন করে। এরই প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান। রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশের ওপর ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়ে ওই দিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন চেম্বার আদালত। ওই দিন শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত যে আদেশ দেবেন আমাদের সেটিই মেনে নিতে হবে।’

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে এক কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপির তালিকা, ব্যাংকগুলো থেকে আত্মসাতের মাধ্যমে কারা, কী পরিমাণ অর্থ দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে পাচার করেছে এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চায় হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ বিষয়ে একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত। প্রতিবেদন দিতে একাধিকবার সময় নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে একাধিক তারিখেও প্রতিবেদন না দেওয়া এবং ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট। গত শনিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের তিনশ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন।