রেলের ১০ উৎসে দুর্নীতি প্রতিরোধে ১৫ সুপারিশ

সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ইঞ্জিন ও বগি সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১০টি উৎসে দুর্নীতি চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে রেলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনাসহ ১৫ দফা সুপারিশ করেছে কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের কাছে দেওয়া দুদকের প্রতিবেদনে দুর্নীতির খাত চিহ্নিত করে তা রোধের সুপারিশ করা হয়। দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান মন্ত্রীর কাছে এসব সুপারিশ তুলে দেন। বাংলাদেশ

রেলওয়ের দুর্নীতিসংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক দল এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করে। বিষয়টি কমিশনের অনুমোদনের পর মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হলো।

উৎস : দুদকের প্রতিবেদনে দুর্নীতির যে ১০টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীর অধীনে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লিজ/হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, রেলওয়ের ওয়াগন; লোকোমটিভ, কোচ, ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডিএমইউ) ক্রয়, সংগ্রহসহ অন্যান্য ক্রয় বা সংগ্রহ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি; রেলওয়ের বিভিন্ন সেকশনের স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা সংস্কার ও আধুনিকায়নে দুর্নীতি; ডাবল লাইন ও সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি; রেলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণকাজে দুর্নীতি; রেলের কারখানাগুলোতে (সৈয়দপুর, পাকশী, লালমনিরহাট, পাহাড়তলী) সংস্কার, যন্ত্রাংশ বিক্রয় ও সংস্থাপনে বিপুল পরিমাণ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ; রেলের ওয়ার্কশপগুলো কার্যকর না করে আমদানির মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি; টিকিট বিক্রিতে ব্যাপক কালোবাজারি ও এতে রেলের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকা; যাত্রীবাহী ট্রেনে ইজারা দেওয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং আন্তঃনগর ট্রেনসহ অন্যান্য ট্রেনে বিক্রি করা খাবারের নিম্নমান ও দাম বেশি হলেও এগুলোর যথাযথ তদারকি না হওয়া।

সুপারিশ : এসব দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দুদক যেসব সুপারিশ করে তার মধ্যে রয়েছে রেলের লোকবল নিয়োগে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া; বিভিন্ন ধরনের ক্রয়ে প্রকাশ্য বা ই-টেন্ডারিং করা এবং এসব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বুয়েট/চুয়েট/ কুয়েট/ ডুয়েটের বিশেষজ্ঞদের রাখা; ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে রেলের সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত; অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান; রেলের ওয়ার্কশপ ও সিøপার ফ্যাক্টরিগুলো সচল করা; কোচ আমদানি নিরুৎসাহিত করে রেলওয়ের নিজস্ব কারখানায় কোচ নির্মাণের সক্ষমতা তৈরি; একচেটিয়া ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পিপিএ ও পিপিআর অনুসরণ করা; বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন লাইন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ তদারকির ব্যবস্থা; অডিট কার্যক্রম জোরদার করা ও অডিট আপত্তি জরুরিভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা; পিপিআর অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে রেলওয়ের পুরাতন মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া; কালোবাজারি রোধে টিকিট বিক্রিতে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা; রেলওয়ের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠাকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া; আধুনিকায়নের মাধ্যমে যাত্রীসেবা বাড়ানো; ট্রেনে পরিবেশিত খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণ করা এবং রেলের সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির আওতায় আনা।