রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ঘরে ঢুকে এক নারী ও তার মেয়েকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের দুর্গম গবাছড়ি গ্রামের আগাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত দুজন হলেন ম্রা সুই খই মারমা (৬০) ও ম্যসাং নু মারমা (২৯)। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী গিয়ে গতকাল বেলা ১১টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ধারণা, নিহত দুজনের স্বামী মারমা লিবারেশন পার্টি (এমএলটি) ছাড়ায় তাদের খুন করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় দুজনেরই স্বামী ঘরের বাইরে ছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নিহত নারী ও তার জামাতা ইতিপূর্বে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন এমএলটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি তারা সেই দলটি ছেড়ে পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে
এমএলটির সশস্ত্র সদস্যরা তাদের বসতঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে চলে যায়। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে নারাজ ম্রা সুই মারমার স্বামী কং সুইউ ও ম্যসাং মারমার স্বামী হ্লা সিংউ।
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাইখালী থানার ২৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা গবাছড়া গ্রামের আগাপাড়ায় গতকাল ভোররাতে কং সুইউ মারমার স্ত্রী ম্রা সুই খই মারমা ও তার মেয়ে ম্যসাং নু মারমাকে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ব্রাশফায়ার করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা পাশের বাঙ্গালহালিয়া বাজারে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
চন্দ্রঘোনা থানার ওসি আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় খবর পেয়েছি দেরিতে। নিহত মা ও মেয়ের বুকে ও হাতে দুটি করে চারটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোররাতেই দুর্বৃত্তরা হানা দিয়েছিল ঘুমন্ত মা-মেয়ের ঘরে। তবে ঠিক কী কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।’ ওসি জানান, দুজনেরই স্বামী আগে এমএলটির সদস্য ছিলেন বলে গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে জেনেছেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। পরে তাদের ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের পরিবার থেকে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি কারও বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’