আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, টকশোওয়ালারা গভীর রাতে টেলিভিশনে বলে থাকেন, দেশে নাকি আইনের শাসন নেই। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট, জেলহত্যা, ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা ইত্যাদি ঘটনার বিচার বন্ধ করাকে টকশোওয়ালারা আইনের শাসন বলতে ভালোবাসেন। কিন্তু খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়ার নিন্দা জানাতে দেখিনি টকশোওয়ালাদের। গতকাল মঙ্গলবার
দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় নবনির্মিত সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নতুন ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আইনের শাসন মানে হচ্ছে আইন সকলের ঊর্ধ্বেÑ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এ বিষয়টিই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেউ যদি অপরাধ করে তার বিচার হবেই। এখন মানুষ এটিই বিশ্বাস করে। এটিই হচ্ছে আইনের শাসন। আসল অভিধানে যে আইনের শাসনের সংজ্ঞা আছে সেই আইনের সংজ্ঞা চায় বাংলাদেশের মানুষ এবং সেটি একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনাই দিতে পারেন।
বিএনপির আমলে কোনো আদালতই স্বাধীন ছিল নাÑ এমন দাবি করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিএনপির আমলে তাদের নেতারা টেলিফোন তুলে বলতেন, একে সাজা দিয়ে দাও, তাকে খালাস করে দাও। এই কারণে এখন তারা আমাদের বলেন, তাদের নেত্রীকে (বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া) নাকি আমরা মুক্তি দিতে পারি। উনাদের নেত্রী এতিমের টাকা চুরি করেছেন বলেই বিচারিক আদলতে সাজা হয়েছে। অপরাধ করলে বিচার হবে, বিচারের মাধ্যমে সাজা অথবা খালাস হবে।
দেশের আদালতগুলোতে ৩৫ লাখ মামলাজটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ মামলাজট একদিনে তৈরি হয়নি। বর্তমান সরকার সেই জট ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন। বিচার বিভাগ যে রায় দেয় সেটাই সবাইকে মেনে নিতে হবে। আমাদের এর মধ্যে কিছুই করার নেই। এখন আমরা এসব নিয়ে থাকতে চাই না। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, নির্দেশনা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করতে চাই।
নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রার অফিস মাঠে মহাপরিদর্শক (নিবন্ধন) ড. খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি, নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদীন খাঁন তুহিন, ভালুকা আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ কাজিম উদ্দিন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক।
ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার সরকার লুৎফুল কবির ও নান্দাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. হাফিজুর রহমানের রিপনের সঞ্চালনায় সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, নান্দাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ জুয়েল ও নান্দাইল পৌরসভার মেয়র মো. রফিক উদ্দিন ভূইয়া। এর আগে আইনমন্ত্রী ফলক উন্মোচন করে নবনির্মিত চারতলা বিশিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন।