কর্মস্থলে শুধুমাত্র কাজকেই গুরুত্ব দিলে চলবে না। খেয়াল রাখতে হবে নিজের সাজ-পোশাকের দিকেও। কেননা একজন মানুষের সাজ-পোশাকেই তার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। আর পরিপাটি পোশাক ও মানানসই সাজ আপনাকে করবে আত্মবিশ্বাসী যা কর্মক্ষেত্রে অন্যদের কাছে আপনার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেবে সেই সঙ্গে আপনার কাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
লিখেছেন কুলসুম রাহী
সাজের ক্ষেত্রে আপনি প্রথমে অফিসের পরিবেশ বুঝে নেবেন এরপর সিদ্ধান্ত নেবেন কেমন সাজে আপনি ওই পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। তবে যেমন সাজেই নিজেকে উপস্থাপন করুন না কেন অবশ্যই তা যেন মার্জিত হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। অনেকেই বলে থাকেন এত কাজের মধ্যে সময় কোথায়। যেহেতু সময়ের অভাব তাই সাদাসিধে, আরামদায়ক ও কাজের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন সাজ-পোশাক বেছে নিন।
কর্মস্থলে সাজ কেমন হবে তা জেনে নিন
দেশীয় পোশাক : বাঙালি নারীদের পছন্দের পোশাক সালোয়ার-কামিজ কিংবা শাড়ি এরূপ পোশাকে সাজের ক্ষেত্রে প্রথমে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এরপর স্কিন টোনের সঙ্গে মিল রেখে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। এর ওপর হালকা ফেইস পাউডার লাগালে ভালো লাগবে। শুষ্ক ত্বকে পাউডার জাতীয় সাজ-সরঞ্জাম না লাগানোই ভালো। চোখের নিচে গাঢ় করে কাজল কিংবা চোখের ওপরে সরুভাবে আইলাইনার লাগিয়ে নিন। এছাড়া শুধু মাশকারাও লাগাতে পারেন। ঠোঁটে লিপস্টিকের ক্ষেত্রে সব সময় হালকা রং বেছে নিন। গাঢ় রং না লাগানোই ভালো। ম্যাটজাতীয় লিপস্টিকই অফিসে বের হওয়ার আগে সানব্লক লাগিয়ে নিতে ভুলবেন না।
করপোরেট পোশাক : শাড়ি বা সেলোয়ার-কামিজ ছাড়াও কর্মস্থলে বিজনেস স্যুট নারীদের অন্যতম পোশাক। বেশিরভাগ চাকরিজীবী নারীরা কর্মক্ষেত্রে বিজনেস স্যুট বা ওয়েস্টার্ন পোশাক পরতে পছন্দ করেন। এ ধরনের পোশাকে সাজের ক্ষেত্রে প্রথমে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ত্বক শুষ্ক হলে পছন্দের ব্র্যান্ডের বিবি কিংবা সিসি ক্রিম লাগাতে পারেন। চোখে ন্যুড কালারের হালকা আইশ্যাডো দিন। এ ধরনের পোশাকে কাজল বা আইলাইনার না লাগালেই ভালো দেখাবে। তবে আপনি চাইলে চোখের ওপরে সরুভাবে লাইনার লাগাতে পারেন। এরপর মাশকারা লাগিয়ে চোখের সাজ শেষ করুন। এবার আপনি হালকা ব্লাশন লাগিয়ে নিন যা আপনার সাজে ন্যাচারাল লুক আনবে। ঠোঁটে অবশ্যই হালকা রঙের লিপস্টিক লাগাবেন কেননা কর্মস্থলের পরিবেশের সঙ্গে গাঢ় রঙের লিপস্টিক মানানসই নয়।
চুলের সাজ : সাজ তো হলো এবার আসা যাক চুলের সাজ প্রসঙ্গে। শাড়ি বা সেলোয়ার-কামিজের সঙ্গে আপনি চুলে খোঁপা, বেণী কিংবা পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখতে পারেন। তবে শাড়ির সঙ্গে খোঁপা বেশ মানায় এবং চুলে খোঁপা বা বেণী কর্মস্থলের পরিবেশে বেশ মার্জিত দেখাবে। অনেকেই মনে করেন অফিস পরিবেশে চুল সর্বদা বেঁধে রাখাই ভালো। তবে সেলোয়ার-কামিজ, কুর্তি বা ফতুয়া টাইপ পোশাকের ক্ষেত্রে চুলের ওপরের দিকটা চুলের কাঁটা দিয়ে আটকে বাকি নিচের অংশ ছেড়ে দিতে পারেন যা আপনার লুকে স্নিগ্ধ একটা ভাব আনবে।
এছাড়া বিজনেস স্যুট বা টপস কিংবা ওয়েস্টার্ন পোশাকে আপনি হালকা পাফ করে ব্যান্ড দিয়ে সব চুল উপুড় করে বেঁধে নিতে পারেন বা ছেড়েও দিতে পারেন। এসব পোশাকে পনিটেলও করে নিতে পারেন। বেণীর ক্ষেত্রে নরমাল বেণী এসব পোশাকের সঙ্গে খাপছাড়া লাগে তাই ফ্রেঞ্চ বেণী বা খেজুর কাঁটা বেণী করলে ভালো দেখাবে। এছাড়া পুরো চুল খোলা রেখে চুলের নিচের অংশ কার্ল করে নিতে পারেন। এমন হেয়ারস্টাইল এসব পোশাকের সঙ্গে খুব মানিয়ে যায়।
কর্মস্থলে হেয়ার স্টাইলের ক্ষেত্রে সব সময় একটা বিষয় মাথায় রাখবেন তা হলো চুল অগোছালো বা ভেজা চুলে কখনোই যাওয়া উচিত নয়। অফিসের সাজ কিংবা হেয়ারস্টাইল দুটোতেই রাখুন পেশাদার ভাব। অফিস যাত্রার আগে সময় নিয়ে নিজেকে তৈরি করুন। পোশাকের পাশাপাশি সাজ-সরঞ্জামে সব সময় হালকা রং বেছে নিন। খেয়াল রাখুন সাজগোজে কখনোই যেন উগ্রতা প্রকাশ না পায়। কেননা কর্মক্ষেত্রে আপনার সাজ-পোশাকই তুলে ধরে আপনার পরিশীলিত ব্যক্তিত্ব।