পাবলিক প্লেসে নাকি সেনানিবাসে

এরশাদের কবরস্থান নিয়ে সিদ্ধান্তহীন জাতীয় পার্টি

পাবলিক প্লেস নাকি সেনানিবাসের ভেতর কোথায় হবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর; সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জাতীয় পার্টি (জাপা)। গতকাল বুধবার পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সাংসদদের প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।

এছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে এরশাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য পার্টি এবং তার পরিবার প্রস্তুত। গতকাল বনানীতে পার্টির কার্যালয়ে বেলা ৩টায় এ রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাপার চেয়ারম্যান এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসা নিয়েও আলোচনা হয়।

এর আগে দুপুরে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের এরশাদের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য দেন সাংবাদিকদের। তিনি বলেন, ফুসফুস ও কিডনি কিছুটা উন্নতি করেছে। এ ধারা আরও দু-তিন দিন অব্যাহত থাকলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সভায় উপস্থিত একাধিক প্রেসিডিয়াম মেম্বার দেশ রূপান্তরকে বলেন, অধিকাংশ নেতা ও এমপিরা এরশাদের কবরস্থান নিজস্ব কেনা জায়গায় পাবলিক প্লেসে করার পক্ষে মত দেন। যদিও কয়েকজন প্রেসিডিয়াম মেম্বার দাবি করেন, এরশাদ সেনানিবাস অথবা আসাদগেটের বিপরীতে সংসদ প্রাঙ্গণে তার কবরের কথা বলেছেন। তবে এ মতের বিরোধিতা করে এক নেতা বলেন, এরশাদ দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের নেতা। তার কবরস্থান যদি সেনানিবাসে হয় তাহলে সাধারণ মানুষ তার কবরস্থান জিয়ারত করতে যেতে পারবে না।

সভাসূত্র আরও জানায়, সভায় জাপার প্রেসিডিয়াম মেম্বার সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও সফিকুল ইসলাম সেন্টু মোহাম্মদপুর আদাবরে জায়গা কিনে কবরস্থান কেনার প্রস্তাব দেন। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আদাবরে না পাওয়া গেলে সাভারে আমার নিজস্ব জায়গা থেকে দুই বিঘা জায়গা এরশাদের কবরস্থানের জন্য লিখে দেব। এরপর প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী মামুনুর রশিদ পাবলিক প্লেসে এরশাদের কবরস্থান করার দাবি জানিয়ে বলেন, নেতা এরশাদের কবরস্থানের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ৫ কোটি টাকা দেব।

সভায় দেশের বাইরে থেকে ভালো চিকিৎসক আনা যায় কি না তা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান প্রেসিডিয়াম মেম্বাররা। কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, স্যারকে যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে নেওয়া হয়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের যাবতীয় খরচও আমি বহন করব।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। সভায় জাপার ৩৮ জন প্রেসিডিয়াম ও এমপি উপস্থিত ছিলেন। সভায় শুরুতেই জিএম কাদের এরশাদের কথা বলতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা জানান, এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি মূলত মাইলিড প্লাস্টিক সিনডম রোগে আক্রান্ত। তার উন্নত চিকিৎসায় প্রয়োজন হলে সিএমএইচের চিকিৎসকরা সিঙ্গাপুর অথবা অন্য কোনো দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজন হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পল্লীবন্ধুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে। অথবা বিদেশ থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসা হবে। সবকিছুই সিএমএইচের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী হবে।

সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী ফিরোজ রশীদ এমপিকে আহ্বায়ক এবং সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপিকে সদস্য সচিব করে নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা সারা দেশের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন। এছাড়া আগামী শুক্রবার দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা হবে।

এরশাদের সবশেষ শারীরিক অবস্থা জানিয়ে প্রতিদিন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন বলেও জানান তিনি। অন্য কোনো সূত্র থেকে পাওয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে চলতেও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহহ্বান জানানো হয়।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এম এ সাত্তার, সাহিদুর রহমান টেপা, শেখ মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, সুনীল শুভ রায়, হাজি সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, এটিইউ তাজ রহমান, আজম খান প্রমুখ।