কেরোসিন ঢেলে শিক্ষক ‘হত্যাচেষ্টা’ ছাত্র রিমান্ডে

নগরীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসটিসি) এক শিক্ষককে অফিস থেকে বের করে গায়ে কেরোসিন ঢেলে লাঞ্ছিত করার  ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীর দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খান এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান (২২) ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। গত মঙ্গলবার দুপুরে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদকে অফিস থেকে টেনে বের করে রাস্তায় নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় ইউএসটিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দিলীপ কুমার বড়–য়া নগরীর খুলশী থানায় মামলা করেন। এতে গ্রেপ্তার মাহমুদুলের বিরুদ্ধে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুদিনের রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি-প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) থেকে অবসরের পর ইউএসটিসির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তাকে ‘হত্যাচেষ্টা’র নিন্দা জানিয়েছে চবি শিক্ষক সমিতি।

খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, মাহমুদুলের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০৭, ৩২৩ ও ৩৪১ ধারায় অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছনার এ ঘটনাটা পূর্বপরিকল্পিত। এর নেপথ্য কারা রয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হবে।

ইউএসটিসি কর্র্তৃপক্ষ জানায়, ইংরেজি সাহিত্যের ক্লাসে কবিতা পড়াতে গিয়ে নারী-পুরুষের জৈবিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাকে ‘যৌন হয়রানি’ দাবি করে শিক্ষক মাসুদ মাহমুদের পদত্যাগের দাবিতে গত এপ্রিলে একদল শিক্ষার্থী আন্দোলনে নামে। তারপর এ ঘটনা ঘটল। ঘটনা তদন্তের তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কর্র্তৃপক্ষ।

চবি শিক্ষক সমিতির নিন্দা : গতকাল চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জাকির হোসেন ও সম্পাদক অধ্যাপক অঞ্জন কুমার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢেলে লাঞ্ছনা ঘৃণ্য ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ড। তারা গ্রেপ্তার আসামিসহ জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনার এবং এই অধ্যাপকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।