প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা দুপুরে ডিম-কলা রুটি পাবে

শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে দুপুরে রান্না করা খাবার (ভাত-তরকারি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা পরিবর্তন হচ্ছে। এর পরিবর্তে সারা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিম-কলা অথবা ডিম-রুটি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের নেওয়া ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে আগামী অক্টোবর থেকে দেশের ১৬ উপজেলায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রান্না করা খাবার তৈরিতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। এটা পরিবেশন করতেও বেশ সময় লাগে। বিদ্যালয়ের পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। বরাদ্দ না থাকায় এসব কাজের জন্য বাড়তি কোনো কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল হিসেবে রান্না করা খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসার চিন্তা করছি। এর পরিবর্তে সপ্তাহে তিন দিন সিদ্ধ ডিম-কলা, বাকি দিনগুলো ডিম-রুটি দেওয়ার চিন্তা চলছে। প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য মাথাপিছু ২০ থেকে ২২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে। এ বাবদ মাসিক প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে।’

স্কুল মিল কর্মসূচির আওতায় উপজেলা নির্বাচন করা হয়েছে দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল অনুযায়ী। সরকারি কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়া হবেÑ কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, পাবনার বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাইবান্ধার সাঘাটা, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, জামালপুরের ইসলামপুর, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও কাউখালী, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, যশোরের ঝিকরগাছা, খুলনার বাটিয়াঘাটা, বরগুনার বামনা, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত পাইলট প্রকল্প চলছে। এটির মেয়াদ শেষ হলে ওই ১৬ উপজেলার সঙ্গে লামাও যুক্ত হবে।