বাজেটে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিফলিত হয়নি

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, সাহিত্যিক ও শিল্প-সমালোচক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি, সিলেটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ১৯৭৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর একই বছরে ওই বিভাগে শিক্ষকতায় যোগ দেন। টানা চার দশকেরও বেশি অধ্যাপনায় নিযুক্ত ছিলেন তিনি। কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন ১৯৮১ সালে। ১৯৯৬ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাহিত্যিক সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির ন্যায়পালের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার মান, বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, আওয়ামী লীগের ৭০ বছর পূর্তি, সংবিধান, রিফাত হত্যাকা-সহ সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে

দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অধ্যাপক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য আরিফদেশ রূপান্তর : বাংলাদেশে শিক্ষার হার বাড়লেও সার্বিক শিক্ষার মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : সার্বিক শিক্ষার মান কাক্সিক্ষত মাত্রায় যেতে পারেনি। যে মান অর্জন করলে আমরা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারব, সেই মানের ধারেকাছে আমরা পৌঁছাতে পারিনি। শিক্ষার বিস্তার বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু ভাষাশিক্ষায় আমাদের গলদ থেকে গেছে। একই কথা প্রযোজ্য গণিত শিক্ষা কিংবা বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রেও। দেশে এত বিশ্ববিদ্যালয়ে এত সাধারণ বিষয় পড়ানোর ফলে স্নাতক ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়লেও মানসম্পন্ন স্নাতক ডিগ্রিধারী তৈরি করা যাচ্ছে না। আমি ৪২ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি, এখনো শিক্ষকতা করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটিতে ২৫ বছর ধরে সঞ্চালনা করেছি। বিভিন্ন বিভাগে ইংরেজি সাহিত্য পড়িয়েছি। তাই, অসংখ্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার সংযোগ হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে মানসম্মত ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন এবং সত্যিকারের বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী খুব কমই পেয়েছি। সক্ষমতার কথা যদি ধরি, যদি সত্যি সত্যি সক্ষম স্নাতক ডিগ্রিধারী আমরা তৈরি করতে পারতাম, তাহলে বিদেশ থেকে এসে অন্য দেশের লোকেরা চাকরি করে বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার আয় করে নিয়ে যেতে পারত না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো মান তৈরি হয়েছে; যেমন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান ভালো। কিন্তু একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে শিক্ষার সার্বিক মান আরও বাড়াতে হবে। সংক্ষেপে বলা যায়, যেভাবে শিক্ষার মান বাড়া উচিত ছিল সেভাবে শিক্ষার মান বাড়ানো যায়নি।

 

দেশ রূপান্তর : বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ২ দশমিক এক শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় যা সর্বনিম্ন। সরকার তার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় জিডিপির ২ দশমিক আট শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অথচ ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী তা জিডিপির ৬ শতাংশ হওয়া উচিত। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালের নির্বাচনী জনসভায় বলেছিলেন যে, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ করা উচিত। ১৯৭৪ সালে তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বনিম্ন দুই দশমিক এক শতাংশ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। কিউবায় শিক্ষা খাতে জিডিপির ১২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়, ভিয়েতনামে সাত শতাংশ। আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তা তিন শতাংশের মতো আর পাকিস্তানে তা দুই দশমিক আট শতাংশ। এই অক্ষমতাকে আড়াল না করে আমাদের উচিত ২০৩০ সালের মধ্যে এটাকে ছয় শতাংশে উন্নীত করা। না হলে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি তা অর্জন করা সম্ভব নয়। আমরা বিদেশ থেকে প্রকৌশলী বা ব্যবস্থাপক এনে কখনো উন্নত হতে পারব না। আবাহনী যদি এশিয়ান ফেডারেশন কাপ জয় করে, তাহলে সেটাকে দেশের অর্জন বলা যাবে না। জাতীয় দলের অর্জনই প্রকৃত অর্জন। তাই ক্রমান্বয়ে আমাদের শিক্ষা খাতের বরাদ্দ জিডিপির ছয় শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে যদি আগামী বাজেটে বরাদ্দ তিন শতাংশ করা যায়, তার পরের বাজেটে আরেকটু বাড়ানো যায়, তাতেই আমি সন্তুষ্ট।

 

দেশ রূপান্তর : বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার ৭০ বছর পূর্ণ করল। যে মূলনীতিগুলোর ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল সেগুলোকে কি এখনো তারা ধরে রাখতে পেরেছে?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : ৭০ বছরে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়। আমাদের কমিউনিস্ট দলগুলো তো ৭০ বছর অতিক্রম করে অনেক দূরে চলে গেছে। তাই আমি এ চিন্তা করি না যে ৭০ বছর আগে যে আদর্শ ছিল তা ধরে রাখতে হবে। কিন্তু আদর্শবাদের তো কিছু নৈতিক দিক এবং কিছু প্রায়োগিক দিক থাকে। প্রায়োগিক দিক বদলাতে পারে, কিন্তু নৈতিক দিক তো বদলাতে পারে না। বঙ্গবন্ধু বলতেন, দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন। এবারের বাজেটের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, কিভাবে দুঃখী মানুষের মুখের হাসি মøান করে দিয়ে ধনী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো হয়েছে। এটা তো আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া বাজেট। বাজেটে যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিফলিত না হয়, সেক্ষেত্রে বলা যায় আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে দূরে চলে গেছে। তারপরে, পদবঞ্চিত ছাত্রনেতারা যে অনশন করে, সেটা তো পদের জন্য। পদটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যে সংগঠনের নেতারা পদের জন্য অনশন করে, সেখানে পদের জন্য তাহলে অনেক কিছু হচ্ছে। আমি যদি সত্যিকার অর্থে মানুষের সেবা করতে চাই, তাহলে দলের পদে যেতে হবে কেন? আমি তো বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য রাজপথে নামতে পারি। বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ সবসময়ে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সাড়ে চৌদ্দ বছর জেলে কাটিয়েছেন। এখন জেলে গেলে প্রথমেই ডিভিশনের কথা চিন্তায় আসে। চোর-ছ্যাঁচড়গুলো জেলে যায় আর প্রথম শ্রেণির জন্য আবেদন করে। তার মানে আদর্শটা খুব গোলমেলে হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল জনবান্ধব, কর্মপন্থাও ছিল জনবান্ধব। এখনকার কর্মপন্থা জনবান্ধব নয়, আদর্শও বিচ্যুত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমাদের জাতীয় সংসদে ৭০ ভাগ ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের তো একটাই দর্শন, খরচ কমাও, মুনাফা বাড়াও। এটা তো রাজনীতিবিদের দর্শন হতে পারে না। আমাদের জাতীয় সংসদের যারা সদস্য তারা কি তৃণমূল থেকে উঠে আসছেন? তৃণমূলের চিন্তাভাবনা ধারণ করতে না পারলে এমনিতেই তো আদর্শ থেকে সরে যাওয়া হয়। আওয়ামী লীগের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীনতা এসেছে। কিন্তু এখনকার আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ফিরতে হলে আওয়ামী লীগকে খোলনলচে পাল্টে ফেলার সংগ্রামে নামতে হবে। আমি জানি না, তারা সেটার জন্য প্রস্তুত কি না।

 

দেশ রূপান্তর : ১৯৭২ এর সংবিধানের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা রাখা হলেও পরে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে সেই নীতি থেকে সংবিধানকে বিচ্যুত করা হয়েছে। এখনো সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : সংবিধানে পরিবর্তন আসতেই পারে। বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে তা আসে, যেমনটা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিয়তই হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কারা এ সংশোধনী আনছে? জেনারেল এরশাদ একটা বিশেষ পক্ষকে খুশি করার জন্য রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছিলেন। এর আগে জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী দলকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। ফলে, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এলো তখন তার পক্ষে একেবারে পেছনের সবকিছু মুছে ফেলা সম্ভব ছিল না। তাকেও টিকে থাকতে হলে কারও না কারও সমর্থন দরকার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনীর সমর্থন লাগবে। সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক সমাজের সমর্থন লাগবে। এগুলোতে প্রতিনিয়ত চিন্তার পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশে যে হারে মানুষ ধর্মের আচার আচরণ পালন করে থাকে, সে হারে কি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে? তারই প্রতিফলন পড়েছে। আমরা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছি, কিন্তু ইসলাম কি পালন করছি? যদি আমরা সত্যিকারের ইসলাম পালন করতাম, তাহলে তো সমস্যা ছিল না। ইসলামে বলা হয়েছে, প্রতিবেশীকে অভুক্ত রাখা যাবে না। প্রতিবেশী হিন্দু কি মুসলিম তা বলা হয়নি। ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রচ্ছন্নভাবেই আছে, আমি সবাইকে নিয়ে থাকব। সবার উন্নতির চেষ্টা করব। শিক্ষা অর্জনের জন্য সুদূর চীনে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। চীন তো মুসলিম দেশ নয়। আমরা সত্যিকারের ইসলাম পালন না করে, তার পোশাকি রূপটা ধারণ করেছি। এখন ধর্মের চর্চা বাড়ার পাশাপাশি যদি নৈতিকতা বাড়ত, তাহলে তো একটা মণিকাঞ্চন যোগ হতো। আমাদের ছোটবেলায় দেখেছি যারা ধার্মিক তারা আবার নৈতিকতাসম্পন্ন। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সংবিধানে যা সংশোধনী আনা হয়েছে তাতে জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রতিফলিত হয়েছে। এটা বাজেটের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে। বাজেট সংসদে প্রস্তাব করার পরপরই এফবিসিসিআই তাকে স্বাগত জানাল। তার অর্থ বাজেটে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা কখনোই জনআকাক্সক্ষা ধারণ করেনি। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটার পরে যেসব সরকার এসেছে তারাও তা ধারণ করে না। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই যতদিন সংবিধানে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন এই ধরনের সংশোধনী অব্যাহত থাকবে।

 

দেশ রূপান্তর : বরগুনায় রিফাত শরীফ নামে এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দেশের মানুষের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সম্মিলিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মানসিকতা লোপ পেয়েছে। কেমন যেন একটা ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ সর্বত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : এটা ঠিক, সমাজে এখন যত অনাচার হয় তা প্রতিরোধে মানুষ এগিয়ে আসে না। এর প্রথম কারণ, মানুষ যদি অন্যায়ের প্রতিরোধ করে মারা যায় তাহলে তার প্রতি কারও দায়বদ্ধতা থাকবে না, তাহলে তার পরিবার পথে বসবে। দ্বিতীয় কারণ, সে যাকে অন্যায়ের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে জেলে পাঠাতে সাহায্য করবে, সেই ব্যক্তি আবার ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না। এই যে নয়ন বন্ড, সে তো স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় এত বেপরোয়া হয়েছে। এখন যাকে অপরাধের জন্য জেলে পাঠানো হলো, সে যে জেল থেকে বেরিয়ে এসে তাকে যে ধরিয়ে দিতে সাহায্য করেছে তাকে কোপাবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? আইনের শাসনের যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠবে কীভাবে? এ থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি পর্যায়ে কাজ করতে হবে। প্রথম, শিক্ষাব্যবস্থাকে সংস্কার করতে হবে। সেখানে নৈতিকতা শেখাতে হবে। দ্বিতীয়, সরকারের আচার-আচরণে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তৃতীয়, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হবে। সেখানে যদি সবকিছুর মীমাংসা করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। সংসদের যে ৩৩০ জন সদস্য আছেন তারা যদি শপথ নেয় গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশের, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট কমিটি আছে। সেটা যে কাউকে তলব করতে পারে। অনুরূপ ব্যবস্থা এখানেও দরকার। এক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটি এই দায়িত্ব নিতে পারে। স্বল্পমেয়াদে এ থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এজন্য আমরা সামাজিকভাবে তৈরি হলেও রাজনীতিতে স্বচ্ছতার অভাবে তা অর্জন করা যাচ্ছে না। রাজনীতিকে স্বচ্ছ হতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকাও রয়েছে। সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বাড়াতে হবে। তাদের জীবনমান উন্নত করে গণমাধ্যমকে দ্বিতীয় সংসদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই সরকার ও তার প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম সবাই মিলে একটা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।