সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভায় ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে গতকাল বৃহস্পতিবার প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের তিনটি স্থাপনা বা এলাকাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দিয়েছে ইউনেস্কো। এর মধ্যে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ও পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে ১৯৮৫ সালেই তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি। আর সুন্দরবনকে এই তালিকায় ঠাঁই দেওয়া হয় ১৯৯৭ সালে। কিন্তু রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, বনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল, বনসংলগ্ন
এলাকায় শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে সুন্দরবনকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকাভুক্তির সুপারিশ করে ইউনেস্কো। বাকুতে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির (৪৩তম) সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। তবে ২১ সদস্যবিশিষ্ট বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটিতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটিতে সুন্দরবন সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নতুন সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে। এ ছাড়া আজারবাইজান, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া, বুরকিনাফাসো, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে এবং পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতসহ ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র সরাসরি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরই বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানাবে এবং ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে হালনাগাদ তথ্য সংবলিত একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বর্তমান কমিটির উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকরণে গৃহীত এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উৎসাহিত করবে। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কমিটি বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নির্মিতব্য বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহের প্রতি সমর্থন জানাল।