কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে রোগীর আত্মীয়-স্বজন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক কামরুজ্জামান আজাদকে আটক করেছে পুলিশ।
শহরের চন্ডিবের এলাকার জুয়েল (৩৪) নামের এক পোলট্রি ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের কমলপুরে এ ঘটনা ঘটে। জুয়েলের মৃত্যুতে তার আত্মীয়-স্বজন উত্তেজিত হয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর করে অভিযুক্ত চিকিৎসকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামানের উপস্থিতিতে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে দেয়। এ সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক কামরুজ্জামান আজাদকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। শুক্রবার সকালে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় জুয়েলের ডান হাত ভেঙে যায়। তখন তিনি ভৈরব ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. কামরুজ্জান আজাদের কাছে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। ওই সময় তার হাতে রড ঢোকানো হয়। হাতের সেই রড খুলতে একই ডাক্তারের কাছে অপারেশন করাতে আসে জুয়েল ও তার স্বজনরা। অপারেশন শুরুর পর পরই জুয়েল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ সময় হাসপাতালের অন্যান্য ডাক্তার ও নার্সরা গা ঢাকা দেন। বিষয়টি জুয়েলের স্বজনদের জানাজানি হলে তারা স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে হাসপাতাল অবরোধ করে ভাঙচুর চালায়।
রোগীর স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক ইমরান অপারেশনের সময় এনেস্থেশিয়া দিতে ভুল করেছেন। এছাড়া কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই রোগীকে ভুল ওষুধ দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
রোগীর বড় ভাই মো. কামাল মিয়া জানান, ‘দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ভাইয়ের হাতের কবজি ভেঙে যায়। সে সময় কবজিতে অপারেশন করে স্ক্রুসহ দুটি প্লেট লাগিয়ে দেন ডা. কামরুজ্জামান আজাদ। দুই বছর পর সে স্ক্রু ও প্লেট অপসারণের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে ডা. কামরুজ্জামান আজাদ জুয়েলকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওটি থেকে বের হয়ে তিনি বলেন, আপনাদের রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। তাকে ঢাকায় আইসিইউতে নিতে হবে। এরপর তিনি আবার ওটিতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর এসে আবার বলেন, আপনার ভাইয়ের কাজটা সুন্দরভাবেই করলাম। যখন বেডে নেব সেসময় শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। সেটা আমরা ক্লিয়ার করতে পারছি না। এখন সেটা সমস্যা লাগছে। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার ভাই কি আছে নাকি মারা গেছে? পরে আমি ওটিতে গিয়ে দেখি জুয়েল মারা গেছে। ভুল ওষুধ দিয়ে ওরা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে।’
এ বিষয়ে ডা. কামরুজ্জামান আজাদ জানান, ‘সম্পূর্ণ অজ্ঞানে ঝুঁকি থাকায় রোগীর এক পাশ অবশ করে অপারেশন করা হয়। রোগীর আবদার ছিল, সে যেন কোনো রকম টের না পায়। সেজন্য ঘুম পাড়াতে বলে। তার অনুরোধে ডা. ইমরান তাকে ঘুমের ওষুধ দেন। ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে তার হাত থেকে সার্জারির মাধ্যমে স্ক্রুসহ দুটি প্লেট অপসারণ করা হয়। তারপর হঠাৎই রোগীর প্রেশার কমে যায় এবং তার হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরক্ষণেই রোগী মারা যান। ভয়ের কারণেই এমনটা হয়েছে।’
ভৈরব সার্কেল অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের ফোর্সসহ আমি যাই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যে ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।