এই দিনে ৭ জুলাই

সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও পরিব্রাজক প্রবোধকুমার সান্ন্যাল ১৯০৫ সালের ৭ জুলাই উত্তর কলকাতার চোরবাগানে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের আদিনিবাস ছিল ফরিদপুরে এবং স্থায়ী নিবাস কলকাতার বালিগঞ্জে। তার সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘কীর্তনীয়া’। প্রবোধকুমার কলকাতার স্কটিশচার্চ কলেজিয়েট স্কুল ও সিটি কলেজে অধ্যয়ন করেন। কর্মজীবনে হুগলির ডাক বিভাগ ও সামরিক বিভাগের হিসাবরক্ষণ শাখায় চাকরি করেন। তিনি যুগান্তর পত্রিকার রবিবাসরীয় সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক (১৯৩৭-৪১) ছিলেন এবং স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালে একবার রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। প্রবোধকুমার দেশভ্রমণ পছন্দ করতেন। তিনি মানস সরোবর, কৈলাস পর্বত ও হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলসহ ছয়বার সমগ্র ভারতবর্ষ ভ্রমণ করেন। ভারতবর্ষ ও নেপাল ছাড়াও তিনি এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ও রাশিয়ার বহু অঞ্চল ভ্রমণ করেন। এসব ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মহাপ্রস্থানের পথে (১৯৩৭), রাশিয়ার ডায়েরী, দেবতাত্মা হিমালয় (দুই খ-), ‘উত্তর হিমালয় চরিত’ প্রভৃতি ভ্রমণকাহিনী রচনা করে বাংলা ভ্রমণ-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। প্রবোধকুমার ১৯৫৬ সালে আগ্রায় এবং পরের বছর ব্রহ্মদেশে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত বঙ্গ-সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। ১৯৫৮ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার তাসখন্দে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশীয় সাহিত্য সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। কল্লোল যুগের খ্যাতনামা ঔপন্যাসিক হিসেবেই প্রবোধকুমারের প্রধান পরিচয়। তার প্রথম উপন্যাস ‘যাযাবর’ প্রকাশিত হয় ১৯২৮ সালে। ‘প্রিয়বান্ধবী’, ‘অগ্রগামী’, ‘আঁকাবাঁকা’, ‘পুষ্পধনু’, ‘বিবাগী ভ্রমর’, ‘হাসুবানু’, ‘বনহংসী’, ‘কাঁচ কাটা হীরে’, ‘নিশিপদ্ম’ ইত্যাদি উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ রচনা করেন তিনি। প্রবোধকুমার তার সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণপদক (১৯১১), শিশির কুমার পুরস্কার, মতিলাল পুরস্কার (১৯১০), শরৎ পুরস্কার এবং আনন্দ পুরস্কার (১৯৮০) লাভ করেন। ১৯৮৩ সালের ১৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।