বেশি জোয়ারে উচ্চতা অনুযায়ী পন্টুন না থাকায় বিঘিœত হচ্ছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ফেরি চলাচল। প্রায় এক সপ্তাহ নদীর জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে চলছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি সার্ভিস। বর্ষার প্রথম অমাবস্যার জোয়ারে ভোলায় মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গত শুক্রবারও প্লাবিত হয়েছে এ রুটের ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট।
সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়রা জানায়, বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার এ সমস্যা প্রতিবছরই দেখা দেয়। এখানে জোয়ারের সময় উচ্চতা অনুযায়ী পন্টুন ও ভাটার সময় উচ্চতা অনুযায়ী পন্টুনের দাবি দীর্ঘ দিনের। পানিতে ঘাট ডুবে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। জোয়ারের সময় পরিবহনগুলোর ঘাটে ওঠা-নামায় সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রীরাও ভিজে পারাপার হচ্ছেন। এখন জোয়ার আর ভাটার ওপর নির্ভর করে ফেরি চলাচল করছে।
এদিকে জোয়ারের কারণে ইলিশা লঞ্চ ও ফেরিঘাট তলিয়ে যাওয়ায় উভয় পাড়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ইলিশা ও মজু চৌধুরীরহাট দুই পাড়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকা পড়ছে।
ইলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, নিচু স্থানে ঘাট নির্মাণ এবং হাই ওয়াটার ঘাট স্থাপন না করায় ইলিশা ঘাটের এমন দুর্ভোগ। সামান্য জোয়ারেই তলিয়ে যায় ফেরিঘাট। একই অবস্থা লঞ্চঘাটেরও।
লঞ্চের যাত্রী ও রাজাপুরের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম গত শুক্রবার জানান, জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে ঘাটের সিঁড়ি ও পন্টুন। এতে সিঁড়ি বেয়ে যাত্রীদের ওঠা-নামায় বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি বেশি। বাধ্য হয়ে ভিজেই লঞ্চে ওঠা-নামা করতে হয় যাত্রীদের।
ট্রাকচালক মো. হোসেন গত শুক্রবার বলেন, ‘৪ দিন হলো ঘাটে আটকে আছি। এখনো শতাধিক ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আকতার বলেন, অমাবস্যার প্রভাবে প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এটাই মৌসুমের প্রথম জোয়ার। এতে মেঘনার পানি বিপদসীমার প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুয়েক দিনেই পানির উচ্চতা কমে আসবে।
ভোলা বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উচ্চতা অনুযায়ী ঘাট নির্মাণের চেষ্টা চলছে।