চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

চীনে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

১ জুলাই চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে পেইচিং যান তিনি। আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন। চীনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার লু ঝায়োহু ও চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল করিম প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী চীন সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়

বৈঠক করেন। তিনি চীনের দালিয়ান শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অ্যানুয়াল মিটিংয়ে যোগ দেন এবং ‘কো-অপারেশন ইন দ্য প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় ঢাকা ও পেইচিংয়ের সঙ্গে ৯টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে আলোচনা হয়। চীনা প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারকে বোঝাবেন বলে আশ^স্ত করেন। এ সময় চীনা প্রধানমন্ত্রী একমত পোষণ করে বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটা (রোহিঙ্গা সমস্যা) বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা।’ এ বিষয়ে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান লি।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার (সিপিসি) মিনিস্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সং তায়োর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সিপিসি মিনিস্টার প্রলম্বিত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি এবং মিয়ানমারের অন্য নেতাদের সঙ্গে তার দলের আলোচনার বিষয়ে শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যেসব বিষয়ে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের খাদ্যসহায়তার জন্য এলওই (লেটার অব এক্সচেঞ্জ), অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, সংস্কৃতি এবং পর্যটনসংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের খাদ্যসহায়তা চুক্তির আওতায় চীন ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করবে।

চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো হলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সাহায্যসংক্রান্ত এলওই, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা স্মারক, ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদের তথ্যবিনিময়সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি, ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমঝোতা স্মারক, পিজিসিবি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক জোরদার প্রকল্পের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোন এগ্রিমেন্ট, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে প্রিফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট লোন এগ্রিমেন্ট।