সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে যাচ্ছে শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। দুই দফা সময় দিয়েও প্রধান দুই শরিক বিএনপি ও গণফোরামের সাত সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের বিষয়ে ‘যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা’ না পাওয়ায় আজ সোমবার জোট ছেড়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেবেন তিনি। গতকাল দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক নেতা।
তিনি আরও জানান, গত শনিবার দলীয় কার্যালয়ে এক বৈঠক হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ নেতা ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এরই অংশ হিসেবে ফ্রন্ট ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকেই জোট ছাড়ার ঘোষণা দেবেন কাদের সিদ্দিকী।
এ বিষয়ে জানতে গতকাল সন্ধ্যায় দলটির যুগ্ম সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখান থেকেই মূলত ফ্রন্ট ছাড়া, না ছাড়ার বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফ্রন্ট আছে, থাকবে। কেউ যেতে চাইলে তো আর তাকে আটকানো যাবে না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এরপর ৫ নভেম্বর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রন্টে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন কাদের সিদ্দিকী। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যান করে ফ্রন্টের নির্বাচিত আট সংসদ সদস্য শপথ নেবেন না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গণফোরামের দুজন ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়া দলের বাকি পাঁচ সংসদ সদস্য শপথ নেন। মূলত এরপরই শপথ নেওয়াসহ নানা ইস্যুতে ফ্রন্টের শরিক দলগুলোর ভেতরে তৈরি হয় দূরত্ব, মান-অভিমান ও টানাপড়েন। এ অবস্থায় গত ৮ মে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি কাদের সিদ্দিকী ফ্রন্ট ছাড়ার হুমকি দিয়ে এক মাসের আল্টিমেটাম দেন সংসদে যোগ দেওয়ার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা চেয়ে। সর্বশেষ গত ১০ জুন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হলেও কাদের সিদ্দিকীর ওই হুমকি নিয়ে সন্তোষজনক কোনো সমাধান হয়নি। তবে কাদের সিদ্দিকীকে সময় দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এরপর এক মাস কেটে যাওয়ায় আজ ফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জোটের আরেক অন্যতম শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। এর মধ্যে সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি জোটের নেতারা। তাই এখন তারা চলে যেতেই পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের কোনো দোষ দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বড় দল হিসেবে বিএনপির ওপর নির্ভর করছে সবকিছু। তারা একদিকে ঐক্যের কথা বলেন, অন্যদিকে ঐক্য ধরে রাখতে যে পারস্পরিক আলোচনা, কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামা প্রয়োজন তার কোনো লক্ষণ তাদের মধ্যে নেই। তারা যেকোনো কারণেই হোক এ নিয়ে উদ্যোগী নন।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ফ্রন্ট ছাড়ার বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে গতকাল রাতে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।