সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সার্বিক শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এরশাদের ছোট ভাই ও পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, তার (এরশাদের) কৃত্রিমভাবে শ^াস-প্রশ^াস চলছে। ফুসফুস কিছুটা কাজ করছে। তবে এখনো তিনি শঙ্কামুক্ত নন।
অন্যদিকে গত কয়েক দিন ধরেই এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদকে মোবাইল ফোনে কে বা কারা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এরশাদের ভাতিজা ও পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আখতার। এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার বেলা ৩টায় এরিক এরশাদের পক্ষে গুলশান থানায়
একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। জিডি নম্বর ৫৫২।
এরশাদের শারীরিক অবস্থা : গতকাল পার্টির বনানী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের জানান, অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস হেমো ডায়া ফিল্টারেশনের মাধ্যমে এরশাদের রক্ত থেকে অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে এবং হেমো পারফিউশনের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
জি এম কাদের বলেন, সব কিছুই যন্ত্র এবং ওষুধের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে। ব্লাড প্রেসার ও হার্টবিট স্বাভাবিক রয়েছে। ফুসফুস, কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেই লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হবে।
তিনি আরও জানান, এরশাদকে ঘুম ও বেদনানাশক ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। অবস্থার উন্নতি হলেই সচেতন করা হবে। প্রতিদিনই এরশাদের শরীরে রক্তের কিছু কিছু উপাদান দেওয়া হচ্ছে। তিনি ভালো আছেন বলা যাবে না। শঙ্কামুক্ত নন, তবে বেঁচে আছেন।
এরিককে তুলে নেওয়ার হুমকি : খালেদ আখতার জানান, কে বা কারা দুই-তিন দিন ধরে এরিক এরশাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করে তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ পর্যন্ত তিন-চারবার হুমকি দেয় তারা। এরিকের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এ কারণে গুলশান থানায় জিডি করা হয়েছে।
হুমকির পেছনে কী কারণ থাকতে পারেÑ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্প্রতি এরিক তার বাবাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি তার বাবার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। এর একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পার্টির নেতাকর্মীদের কাছে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে এরশাদের ছেলে হিসেবে এরিকও দলের নেতাকর্মীদের সহানুভূতি পাচ্ছেন, এমন আশঙ্কায় তাকে হুমকি দেওয়া হতে পারে।
জিডিতে বলা হয়, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার ছেলে শাহাতা জারাব এরশাদ এরিককে কে বা কারা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।’
গত এপ্রিলে এরশাদ তার সব সম্পত্তি যে ট্রাস্টে দিয়েছেন, সেই ট্রাস্টের পরিচালক খালেদ আখতার। ওই ট্রাস্টি বোর্ডে নিজের প্রথম স্ত্রীর ছেলে শাদ এরশাদকে না রাখলেও এরিককে রাখেন এরশাদ। জিডিতে খালেদ আখতার উল্লেখ করেছেন, এরিকের সব ভালো-মন্দ দেখাশোনার দায়দায়িত্ব তার ওপরই ‘অর্পিত’। এরিক এরশাদ-বিদিশার গর্ভজাত সন্তান। ২০০৫ সালে বিদিশার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আদালতের সিদ্ধান্তে এরিক এখন ভাগাভাগি করে মা ও বাবার কাছে থাকেন। ১৮ বছর বয়সী এরিককে ঘিরেই কাটছে এরশাদের দিনগুলো।