ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সব তথ্য পাঠযোগ্য করে লেখার নির্দেশ

অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের ভাষা ও প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী চিকিৎসকের নাম, পদবি, কর্মস্থল স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য করে লেখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আইন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। ২০০৩ সালে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত আসামির করা আপিলের রায় ঘোষণার সময় গতকাল সোমবার বিচারপতি এ এন এম বশিরউল্লাহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এ পর্যবেক্ষণমূলক নির্দেশনা আসে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুল ইসলাম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা রশিদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসান শহীদ কামরুজ্জামান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০০৩ সালের ১ জুলাই যশোরের ঝিকরগাছার গদাখালী ইউনিয়নের বামনখালী গ্রামের রবিউল ইসলামের পাঁচ বছরের শিশু আসমা খাতুনকে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার চাচাতো ভাই কাদের। এ মামলায় কাদেরকে ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়। আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে তার যাবজ্জীবন সাজা বহাল রেখে রায় দেয় হাইকোর্ট।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, ওই শিশু হত্যার ঘটনার মামলার রায় ঘোষণার সময় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের ভাষা ছিল অপাঠযোগ্য। পাশাপাশি প্রতিবেদনে প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী চিকিৎসকের নাম ও কর্মস্থল কিছুই উল্লেখ ছিল না। যে কারণে আদালতের তা বুঝতে অসুবিধা হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালত হতাশা প্রকাশ করে। তিনি বলেন, ‘রায়ে আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন, এখন থেকে যে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করবেন তার নাম, পদবি, কর্মস্থল স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভাষা যেন সহজীকরণ ও স্পষ্ট হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’