বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে দেওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কেটে দিয়েছে।

এতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার ৬টি উপজেলার বিস্তীর্ণ গোচারণ ভূমি ও বাথান এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।

ফলে এ দুই জেলার ৬ উপজেলার গো-খামার মালিকেরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। উপজেলা গুলি হল, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চরাচিথুলিয়া গ্রামের আলহক ফকির, রাউতারা গ্রামের ফরমান শেখ, বাচ্চু সরকার ও রোশনাই জানান, সোমবার রাত ১১ টার পরে কে বা কারা বাঁধের পশ্চিম অংশে ও মঙ্গলবার সকালে মাৎস্য শিকারিরা বাঁধের মাঝ বরাবর কেটে দেয়। মুহূর্তে ১২শ মিটার বাঁধের অধিকাংশ এলাকা পানির চাপে ভেঙে যায়। এতে হু হু করে বাঁধ অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।

জমির সব ফসল আগেই  উঠে যাওয়ায় ফসলের কোন ক্ষতি না হলেও বিপাকে পড়েছেন গো-খামার মালিকেরা। তারা বাথান এলাকা থেকে গবাদি পশু সরিয়ে নিয়ে বাড়ির উঁচু স্থানে রাখছে। অপর দিকে গো-চারণ ভূমি ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে খামারের অধিকাংশ গরুর দুধ উৎপাদন কমে গেছে। এতে খামারিরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছে।

তারা আরো বলেন, বাঁধ এলাকার মৎস্য শিকারি ও শ্যালো নৌকা মালিকেরা অধিক মুনাফার লোভে বাঁধটি কেটে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে পোতাজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রেশমবাড়ি গ্রামের গো-খামার মালিক মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী বলেন, বাঁধটি রক্ষায় গত ২ সপ্তাহ ধরে ২ জন চৌকিদারকে পাহারার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপরেও দুর্বৃত্তরা চৌকিদারের নজর এড়িয়ে বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এ বছর আগেই ফসল উঠে যাওয়ায় ফসলের কোন ক্ষতি হয়নি। তবে গো-খামারিরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মঞ্জু আলম সরকার বলেন, জমি থেকে ফসল আগেই উঠে গেছে। ফলে এতে ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। তবে গো-খামারীদের কিছুটা ক্ষতি হবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার ইরি-বোরো ফসল রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২শ মিটার দৈর্ঘ্যের এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ফলে বন্যা থেকে এ বছর ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বাঁধটি কেটে দেওয়ায় ফসলের কোন ক্ষতি না হলেও বাঁধ অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করায় গো-খামারীদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আগামীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

তিনি আরো বলেন আগামী বছর এখানে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।