সংশোধিত এডিপির ৯৪ দশমিক ৩২ শতাংশ বাস্তবায়ন

অর্থবছরের শুরুর দিকে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দে অর্থ ব্যয় হয় না। শেষ দিকে এসে ব্যয়ের হিড়িক পড়ে। সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ব্যয় হয়েছে ৪৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৬ শতাংশ। এর আগের বছরও এই ধারা অব্যাহত ছিল। এর আগের বছর ব্যয় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩১ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। শেষ দিকে পয়সা খরচের হার বেশি দেখাতে যেনতেনভাবে অর্থ ব্যয় করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

আইএমইডি জানায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির ৯৪ দশমিক ৩২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। এ সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৯৪ দশমিক ১১ শতাংশ। ওই সময় খরচ হয়েছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। গেল অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭৭৬ হাজার ২০ কোটি টাকা।

এ ব্যয় গত চার বছরের ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ২০১৭-১৮তে ব্যয় হয়েছিল মোট বরাদ্দের ৯৯.১১ শতাংশ, তার আগের ৮৯.৭৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছিল। 

এম এ মান্নান বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে তদারকি বাড়িয়েছিলাম। ফলে সর্বোচ্চ আকারে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে। তার আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছর শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি অঙ্কে সামান্য বলে হলেও ফিগার কিন্তু অনেক বড়। প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন বাড়ায় খুশি হয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী চলতি অর্থবছর প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বেশি নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরে যে টাকা ব্যয় হয়েছে তার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এসেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা থেকে এসেছে ৪৭ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারীর নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। গত অর্থবছর মোট প্রকল্প ছিল ১ হাজার ৪০৬টি।