২০২৩ বিশ্বকাপ লক্ষ্য রেখে কোচ নিয়োগ দিতে হবে

প্রতিটি বিভাগেই বিশেষজ্ঞ কোচ তো লাগবেই, যেহেতু বড় বড় দলের সঙ্গে খেলবে। হেড কোচের হতে হবে বিজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ। বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো অনভিজ্ঞ কোচ নিয়োগ দেওয়া আমার মনে হয় না ঠিক হবে। বাংলাদেশ দলে এমন একজন কোচ প্রয়োজন যিনি মাঠে অনুশীলনও করাবেন। আবার পরিকল্পনাও করবেন। বড় দলগুলোকে কোচিং করানো এরকম অভিজ্ঞ কোচ প্রয়োজন এখন। যিনি নতুন ক্রিকেটার জন্ম ও গড়ে তোলার পাশাপাশি যারা আছে, তাদেরও পারফরম্যান্সে উন্নতি আনবেন। ইদানীং একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে সাবেক খেলোয়াড়দের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। কোর্টনি ওয়ালশকে পেস বোলিং করা হয়েছিল। সুনীল যোশি স্পিনারদের নিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু এ বিশ্বকাপেই বাংলাদেশের বোলারদের হতশ্রী দশাটা প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। পাঁচ বছর আগেও আমাদের পেস অ্যাটাক এখনকার চেয়ে ভালো ছিল। গর্ডন গ্রিনিজ দীর্ঘদিন বাংলাদেশে কাজ করেছেন। কিন্তু ওই মানের একজন ভালো ব্যাটসম্যান কিন্তু গড়ে তুলতে পারেননি। অথচ বিশ্বে নামকরা আরও অনেক পেস বোলিং কোচ আছেন যারা কখনো শীর্ষপর্যায়ে খেলেননি। ভালো কোচ হতে হলে যে ভালো ক্রিকেটার হতে হবে তেমন কোনো কথা নেই। এমন কোচ প্রয়োজন যিনি আমাদের

সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা রাখেন। সহজে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে সেরাটা বের করে আনতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তার নিজ নিজ সংস্কৃতিকে পুঁজি করেই ক্রিকেট খেলছে। বাংলাদেশ দলের কোচিং বিভাগটা পুরোপুরি বিদেশিনির্ভর। কিন্তু দলে এমন একজনকে প্রয়োজন যিনি আমাদের খেলোয়াড়দের প্রত্যেককে চেনেন, জানেন এবং এ দেশের ক্রিকেটের ধরনটা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন। যাতে করে বিদেশি কোচদের তিনি অনেক বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেন। একটি দলের ক্রিকেটারদের টেকনিক, ট্যাকটিকস, ফিজিক্যাল এবং মেন্টাল দিকগুলো নিয়ে একজন কোচ কাজ করেন। এছাড়া ক্রিকেটারদের লাইফস্টাইল নিয়ে এখনকার কোচরা অনেক কাজ করেন। কীভাবে চলব, কীভাবে ঘুমাব, কী খাবÑ এ বিষয়গুলোও কোচকে দেখতে হয়। এ জায়গাটায় আমার মনে হয় বাংলাদেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে। কারণ অনেক ক্রিকেটার বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে আসে। তাদের লাইফস্টাইল একরকম থাকে। কিন্তু যখন সে একটি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করে তখন তাকে অনেক কিছু শিখতে হয়। নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়। আর তাকে এই জীবনধারার সঙ্গে অভ্যস্ত করে তোলার দায়িত্বও একজন কোচের।

এমন একজন কোচ প্রয়োজন যার কাছেই সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আমার কথায় হয়তো ভাববেন দলের জন্য খুব কড়া একজন ব্যক্তিকে প্রয়োজন, সেটা নয়। এমন একজন প্রয়োজন যার সব ধরনের ক্ষমতা থাকবে। সিদ্ধান্তগুলো যেন নিজেই নিতে পারেন। সবকিছুর ব্যাপারে খোঁজ নিতে পারবেন। প্রত্যেক ক্রিকেটারের খুঁটিনাটি তার নখদর্পণে থাকতে হবে। এরকম কোচ কিন্তু অনেক আছেন। বাংলাদেশকে একবার কোচিং করাতে এসেছিলেন রিচার্ড পাইবাস। খুব অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মধ্যে এই গুণগুলো দেখেছি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ারও অনেক কোচ রয়েছেন। একটি ক্রিকেট জাতির জন্য একজন ভালো হেড কোচ অনেক বড় ব্যাপার। কোচকে আধুনিক ধ্যান-ধারণাসম্পন্ন হতে হয়। বিশেষজ্ঞ কোচ থাকা সত্ত্বেও হেড কোচকে সব বিষয়ে সম্যকজ্ঞান থাকতে হবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, স্পোর্টস মেডিসিন, ফিজিক্যাম, মেন্টাল সব বিষয়েই তার ভালো ধারণা থাকতে হবে। এবং কোচকে হতে হবে শিক্ষিত। সেগুলো কোচিং বিভাগের অন্যদেরও তিনি পরিচালনা করতে পারবেন।

স্টিভ রোডসের সঙ্গে আমার কখনো কাজ করা হয়নি। তবে বোর্ডের ভাষ্য এবং পত্রপত্রিকা পড়ে যেটা বুঝলাম, তিনি অনেক ভালো মানুষ। কিন্তু হয়তো সব সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারতেন না। সিদ্ধান্তগুলো হয়তো পঞ্চ পা-ব এবং বোর্ডে কয়েকজন মিলেই নিতেন।

এমন একজন কোচ হতে হবে যিনি একটা পরিকল্পনা করবেন, যেটা হবে দীর্ঘমেয়াদি। যেটার ফল তিন-চার বছর পর পাওয়া যাবে। বাংলাদেশকে এখন কোচ নিয়োগ দিতে হবে ২০২৩ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে। কোচ সিনিয়রদের পারফরম্যান্স এগিয়ে নিতে সহায়তা দেবেন। পাশাপাশি জাতীয় দলের পাইপলাইন মসৃণ করতে নতুন ক্রিকেটার গড়ে তুলবেন। এই বিশ্বকাপে ভারত দুজন ক্রিকেটার পরিবর্তন করেছে। অথচ বিকল্প যারা এসেছে তারাও প্রায় একই মানের। আমাদের কিন্তু সেরকম বিকল্প ছিল না। আমরা তিন-চার মাসের মধ্যে ফল চাই। সেভাবে ভাবলে চলবে না। এ সময়কালে যারাই কাজ করেছেন তারা কিন্তু নতুন খেলোয়াড় গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেননি। বরং কিছু কোচের বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের নষ্ট করার অভিযোগও অতীতে উঠেছে।

হাথুরুসিংহে এবং জেমি সিডন্সের মধ্যে একজনকে ফেরানোর কথা শোনা যাচ্ছে। তাদের বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণা আছে। বোর্ডও তাদের সম্পর্কে জানে। সুতরাং তারা ভেবে-চিন্তেই সিদ্ধান্ত নেবে। আমি শুধু একটা কথাই বলব, কোচ নিয়োগের আগে অবশ্যই সামনের বিশ্বকাপের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে।