৫৭ বছর পর ফুটল ফুল টাকিলার

টাকিলা মেক্সিকোর অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। প্রায় চারশো বছর আগে এক ধরনের মদ তৈরি করতে উদ্ভিদটির চাষ শুরু করে মেক্সিকো। বর্তমানে দেশটির লাখ লাখ একর জমিতে চাষ হয় উদ্ভিদটির। তবে দেশে শোভাবর্ধনকারী হিসেবেও লাগানো হয় গাছটি। ব্রিটেনের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনেও আছে এই জাতের একটি গাছ। ৫৭ বছর বয়সী গাছটি নিয়ে আলোচনা আছে অনেক দিন থেকেই। অমধাব গন ও ঃবয়ঁরষধহধ প্রজাতির এই গাছে সাধারণত পাঁচ বছরেই ফুল এলেও ক্যামব্রিজের গাছটির ফুল আসছিল না। উদ্ভিদবিদরা এজন্য গাছটিকে রহস্যময় টাকিলা নাম দিয়েছেন।

তবে এ বছর সবাইকে অবাক করে দিয়ে গাছটিতে ফুল এসেছে। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, প্রায় মাসখানেক আগে তিন মিটার উচ্চতার গাছটিতে লম্বাটে কুঁড়ি এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ১৯৬২ সালে টাকিলা মদের মূল উপকরণ টাকিলা গাছ হিসেবেই সেটি লাগানো হয়। তবে এতদিন গাছটিতে ফুল না আসায় এর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না কেউই। বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভিদবিদরা জানিয়েছেন, গাছটিতে দণ্ডাকৃতির একটি কুঁড়ি দেখেই তারা নিশ্চিত হন যে, গাছটি টাকিলাই।

বর্তমানে একটি কাচের ঘরে থাকা গাছটির ফুল যেন আরও বড় হতে পারে সেজন্য ঘরটির চালা খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। সেটি ওপরে যত জায়গা পাবে ততই বড় হবে। তবে একদিন ফুল ও গাছ দুটোই মারা যাবে।

টাকিলা গাছের পুষ্পদণ্ড প্রায় ১৫ ফুটের মতো লম্বা হয়। গাছের পাতা সাত-আট ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এদের কাণ্ড তৈরি হতে প্রায় পাঁচ বছর লেগে যায়। পুষ্পদণ্ড ১৫-২০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। হলুদাভ ফুল ফোটে। পরিবেশের ওপর নির্ভর করে এ গাছ ১০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফুল ফোটাতে পারে। টাকিলা এক ধরনের মনোকারপিক গাছ অর্থাৎ জীবনে যা একবারমাত্র ফুল-ফল-বীজ দিয়েই মারা যায়।