বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে প্রায় চার মাস আগে যাদের দিয়ে সার্চ কমিটি করা হয়েছিল তারা সংকটের সমাধান চান না বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন কমিটি গঠনে বয়সসীমাসহ কয়েকটি ইস্যুতে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা বলছেন, যাদের দিয়ে সার্চ কমিটি করা হয়েছে তারা এখন বিএনপির নেতা হলেও ছাত্রদলে তাদের পুরানো প্রভাব বজায় রাখতে চাইছেন। মূলত এ কারণেই তারা সংকট জিইয়ে রাখছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বিক্ষুব্ধ নেতারা। তারা বলেন, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি সার্চ কমিটির সদস্যরা। তারা আসলে সংকটের সমাধান করতেই চান না। সংকট জিইয়ে রেখে নিজেদের
কর্তৃত্ব ফলাতে চান। এভাবে চলতে থাকলে ‘বড় ধরনের অঘটন’ ঘটবে বলেও হুমকি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। তবে সার্চ কমিটির সদস্যরা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা কাজ করেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা রাজনীতি করতে চাইলে তাদের দলের সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। এখানে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সার্চ কমিটির একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাশা অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হবে। এ জন্য ইতিপূর্বে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছিল। তার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের কাউন্সিলের তফসিলও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের আন্দোলনের মুখে ওই তফসিল স্থগিত করা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের দাবি মেনে তাদের দিয়ে কিংবা বিলুপ্ত কমিটির কোনো নেতাকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হবে না।
সার্চ কমিটির নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সার্চ কমিটির সদস্যরা কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। এর অংশ হিসেবে প্রার্থীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করে দিয়ে বলা হয়েছিল, ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে হলে তাকে অবশ্যই ২০০০ সালে এসএসসি কিংবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তাকে অবশ্যই অবিবাহিতও হতে হবে। আমরা এর বিরোধিতা করে আন্দোলন করায় সার্চ কমিটি আমাদের দাবি মেনে তফসিল স্থগিত করেছিল। এখন আমরা সব সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে একটিমাত্র দাবি জানিয়েছি বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে। সেটি হলো বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা। একমাত্র এই দাবি না মানা হলে আন্দোলনের স্থগিত কর্মসূচি পুনরায় শুরু করতে আমরা বাধ্য হব। নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় আবারও অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।
এদিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা গতকাল বিকেলে শাহজাহানপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের সব সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিয়েছি। বিনিময়ে আমরা চেয়েছি বিলুপ্ত কমিটির কাউকে দিয়ে কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি কিংবা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের। সার্চ কমিটির সদস্যরা শেষ পর্যন্ত তা না করলে ফের আন্দোলন করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না আমাদের।
এরপর গতকাল সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সার্চ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে স্কাইপিতে কথা বলেছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছাত্রদলের সংকট কাটাতে নতুন করে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এ বৈঠকের পর সার্চ কমিটির সদস্য বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন দেশ রূপান্তরকে জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা কাজ করেন, করছেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা রাজনীতি করতে চাইলে তাদের দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই। এটা বিক্ষুব্ধদের বুঝতে হবে। বিএনপির রাজনীতি করতে চাইলে তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধদের মানতেই হবে।
সার্চ কমিটির আরেক সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এখন দল যে সিদ্ধান্ত দেবে- তা তাদের মেনে নিতে হবে দলের রাজনীতি করতে চাইলে। যোগ্যতা অনুযায়ী দলের অন্যান্য সংগঠনে তাদের জায়গা করে দেওয়া হবে।