ড্যাবের কাউন্সিলে ফখরুল

উন্নয়নের সুবিধা পান সরকারের গুটিকতক মানুষ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় উন্নয়নের ঢোল বাজানো হয়। এই উন্নয়নের সুবিধা পান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গুটিকতক মানুষ। তাদেরকে আরও সুবিধা দিতে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘উন্নয়ন পেতে হলে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে’ চীন থেকে ফিরে গত সোমবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, উন্নয়নের জন্য জনগণকে একটা মূল্য দিতে হয় এটা সর্বজনবিদিত। কিন্তু উন্নয়নের কথা বলে যে টাকা জনগণের পকেট  থেকে বের করে নেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের গুটিকতক মানুষের জন্যই।

তিনি বলেন, আজকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। কারণ এলএনজি আমদানি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য। কিন্তু এই এলএনজি আমদানিকারকরা হলেন সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা অথবা তাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। তাদের বাড়তি খরচ জনগণের কাছ থেকে আদায় করার জন্যই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে জনগণের কাছে প্রতীয়মান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার এসব করতে পারছে কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাদের কারও কাছে জবাবদিহিতা করতে হয় না। সরকার রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে আছে। তাই জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই গ্যাসের দাম, ভ্যাট বৃদ্ধি করতে তারা চিন্তা করে না। তাদের একটাই লক্ষ্য একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা। এজন্য গত এক দশক ধরে তারা সব আয়োজন সেভাবে সম্পন্ন করেছে।

এর আগে ড্যাবের ‘কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০১৯’ হয়। দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও একগুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব। কাউন্সিলে ড্যাবের নতুন নির্বাচিত সভাপতি হারুন আল রশিদ, মহাসচিব আব্দুস সালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সেলিম, কোষাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম শাকিল ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়। ড্যাবের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ড্যাবের কমিটি ভেঙে দিয়ে অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারকে আহ্বায়ক করা হয়। আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড্যাবের অধ্যাপক রফিকুল কবির লাবু, অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, এ কে এম মহিউদ্দিন ভুঁইয়া মাসুম, নবনির্বাচিত সভাপতি হারুন আল রশীদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সেলিম, কোষাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম শাকিল, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসান প্রমুখ।