ইউএনওর উপস্থিতিতে নবজাতক কোলে ধর্ষককে বিয়ে

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া নবজাতককে কোলে নিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন এক কনে।

বুধবার দুপুরে রূপগঞ্জে উপজেলা অডিটরিয়ামে নবজাতককে কোলে নিয়ে ওই কনের বিয়ে হয়।  

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে এ বিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম।

ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবার জানায়, বছর খানেক আগে ভোলাবো এলাকার সালাউদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মোবারকের সঙ্গে এই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মোবারক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাদিয়ার সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক মিলন ঘটায়। এতে করে নাদিয়া গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এর পর থেকেই নাদিয়াকে অস্বীকার করতে শুরু করে মোবারক।

এনিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার বিচার সালিশ হয়। গত ৬ দিন আগে ওই ভুক্তভোগী তরুণী একটি কন্যা শিশুর জন্ম দেয়। অপরদিকে  সন্তান জন্ম হওয়ার উপক্রম হতে অবস্থা বেগতিক দেখে মোবারক মালয়েশিয়া চলে যায়।

এ ঘটনায় মেয়ের বাবা তার মেয়েকে বিয়ে করার কথা জানালে ছেলের পরিবার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের বিচারের আশায় ৫দিন ঘুরেও বিষয়টির উপযুক্ত কোন সমাধান করতে না পেরে মেয়ের বাবা রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগমের কাছে এসে নবজাতকের পিতৃ পরিচয় পেতে বিচার দাবি করে।

ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুর সহযোগিতা নিয়ে ইউএনও বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারকে নোটিশ করেন।

পরে বুধবার বিকেলে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে ১০ লাখ টাকা কাবিন ও নবজাতকের নামে ২ শতক জমি লিখে দেওয়ার চুক্তি সাপেক্ষে প্রবাসী মোবারকের সাথে ভিডিও কলে বিয়ে হয়।

বিয়ের শাড়ি, কাবিনের ফি ও বিভিন্ন খরচাদী ইউএনও নিজেই বহন করেন। বিষয়টির সুষ্ঠু ও সামাজিকভাবে সমাধান হওয়ায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূইয়া, ভোলাব ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু, ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান আশকারী, কাজী আব্দুল মতিন সহ আরো অনেকে।

এ ব্যাপারে রুপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেয়ের পরিবার প্রথমে আমার কাছে লিখিত নালিশ করলে আমি দুই পরিবারকে নোটিশ করি। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগীতা নিয়ে বিয়ের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এখন দুই পরিবারই খুশী।