জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিদেশি অনুদান কমেছে

আশির দশকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম বড় কাজ ছিল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ। ‘ছেলে হোক, মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট’ সেøাগান নিয়ে মাঠে নামে এনজিওগুলোও। ওই সময় বাজেটে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাড়তি বরাদ্দের পাশাপাশি এনজিওগুলোর জন্য বিদেশি অনুদানও ছিল উল্লেখ করার মতো। পরে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো এইচআইভি এইডস ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে অধিক মনোযোগী হওয়ায় এ খাতে অনুদান কমতে থাকে। ফলে এনজিওগুলোও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম থেকে গুটিয়ে নেয় নিজেদের। ফলে দিন দিন গুরুত্ব কমছে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রতিবছর বরাদ্দ বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গুরুত্ব আগের মতোই আছে। কিন্তু এক সময় বিষয়টি নিয়ে যতটা আলোচনা হতো, এখন তা একটু কম হচ্ছে মনে হলেও জন্মহার নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। এখন প্রান্তিক পর্যায়ে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ উত্তরণের বরাদ্দের হার বাড়ানো প্রয়োজন।

‘স্বাস্থ্য জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (৪র্থ এইচপিএনএসপি)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদি এ কর্মসূচিতে ব্যয় হবে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। এর ৮৪ শতাংশই সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক প্রতিশ্রুতি এফপি ২০২০-তে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়ন বাজেট থেকে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে ৬১৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এক সময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে যে পরিমাণ প্রচার ছিল, তা এখন আর তেমন নেই। আশির দশকে এ খাতে প্রচুর বৈদেশিক অনুদান আসত। এখন সে হার কমেছে। এছাড়া বেশ কিছু এনজিও আগে এ বিষয়ে কাজ করলেও এখন তারা পরিবেশ উন্নয়নসহ অন্যান্য ইস্যুতে কাজ করছে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ২০১৮ সালে ছিল ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর আগের বছর ২০১৪ সালে ছিল ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এ হিসাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে।