এমপিদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জয়ের

সাংসদদের (এমপি) মন-মানসিকতার পরিবর্তন করে যুগের সঙ্গে তাল মেলানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সবকিছু ডিজিটালাইজড করায় সরকারের দুর্নীতির সুযোগ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমরা কিন্তু আসলেই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বানাতে পারি। সবকিছু ডিজিটালাইজড হলে দুর্নীতির সুযোগ থাকে না; বিশেষ করে সরকারের দুর্নীতি। তবে বেসরকারি দুর্নীতি ভিন্ন কথা।

গতকাল বুধবার সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ : সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় তথ্য ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য বিদ্যমান নীতি ও আইনের পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন সজীব ওয়াজেদ। বাংলাদেশে বিদেশিদের বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র বলেন, গ্লোবালাইজেশনের যুগে আমরা নিজেদের আলাদা করে রাখতে পারি না। আমাদের অর্থনীতিকে আরও ওপেন করতে হবে। আমাদের নিজেদের মাইন্ডসেট একটু চেঞ্জ করতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় বিদেশিরা ব্যবসা করতে পারে। তাতে তাদের অর্থনীতির লাভ হয়। আমাদেরও কিন্তু সেদিকে যেতে হবে। সরকার কিন্তু সম্পূর্ণ তা পারে না। সরকারের সবকিছু সিস্টেম লস হয়। প্রাইভেট সেক্টরে কিন্তু তা হয় না। এ জন্য আমাদের নীতিমালা ও আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন।

জয় বলেন, এরই মধ্যে দেশের ৩০০টির বেশি সরকারি সেবা ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এত দ্রুত সময়ে একটি দেশকে ডিজিটালাইজড করার কার্যক্রম বাংলাদেশ ছাড়া খুব কম দেশই পেরেছে। বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং তদারকিতে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করতে সাংসদদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জয় বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে বাংলাদেশেও ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সেবা চালু হবে। এ সময় দেশে টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে নতুন নীতিমালা করার ঘোষণা দেন তিনি।

তরুণ রাজনীতিবিদ জয় বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করলে তারাই বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে। সে লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মের জন্য যথাযথ শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় তরুণদের গড়ে তুলতে হবে; যাতে বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আমাদের তরুণরা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।’

সাংসদদের উদ্দেশে জয় বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশনের ১০ বছর হয়েছে। আপনাদের হয়তো একটু জানা উচিত, অগ্রগতি কী, আমাদের দেশে এখন কী কী আছে? কী কী সুযোগ-সুবিধা আছে? কী কী করা যায়? কী কী সম্ভব? আপনারা নতুন নতুন আইন করবেন। পলিসি করবেন। তাই একটু জানাতে চাই। ২০০৮ সালে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন প্রকাশ করি, তখন বাংলাদেশের ডিজিটাল বলতে তো কিছুই ছিল না। তখন যদি কোনো সরকারি কাগজের প্রয়োজন হতো, অফিসে অফিসে যেতে হতো অথবা অফিসে গিয়ে বসে থাকতে হতো। ফরমের জন্য বসে থাকতে হতো।

তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের যদি কোনো ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডমিশন নিতে হতো, সে অন্য শহরে গিয়ে ফরম নিয়ে আসতে হতো, ফরম ফিলাপ করে আবার জমা দিতে হতো। আজ এসব আপনার মোবাইলে পাওয়া যায়।  গত ১০ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ফাইবার কিলো বসানো হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত আমরা ফাইবার নিয়ে গেছি।

সাংসদদের অনুরোধ করে তিনি বলেন, আপনারা যখন বিভিন্ন ডিজিটাল প্রজেক্ট দেখতে যাবেন বা অনুমতি দেবেন, তখন একটু মনে রাখবেন, আগে যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই যে করতে হবে, তা নয়। নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাতে হয়, সেটা একটু নজর রাখবেন। প্রশাসনকে ই-ফাইলিংয়ের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তাতে আমাদের, আপনাদের, দেশের সময় বাঁচবে, এফিশিয়েন্সি বাড়বে। এতে আমাদের অর্থনীতির ওপর একটা ডিরেক্ট প্রভাব পড়বে। সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষের জীবনকে আরও সহজ করা। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ ছাড়া সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সব সাংসদকে ডিজিটাল সিকিউরিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।