পানি পানের সঠিক নিয়ম

সুস্বাস্থ্য ও হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ তথ্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অনেকের শরীরে এর চেয়ে বেশি পানির প্রয়োজন হতে পারে। শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টি পৌঁছে দেয় পানি। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জুড়ি নেই পানির। পর্যাপ্ত পানি পানে মনোযোগ বাড়ে। ত্বক ভালো থাকে। শরীরের প্রতিটি কোষে পানির প্রয়োজন। পানি পুষ্টি বহন করে পৌঁছে দেয় শরীরের সব অংশে। শরীরের সব অর্গান প্রাণবন্ত রাখে। অস্থিসন্ধিতে পিচ্ছিল ভাব বজায় রাখে ও টিস্যু আর্দ্র রাখে। মোট কথা, হাইড্রেট রেখে শরীরকে নানা জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে পানি।

কতটা পানি পান করা উচিত : একজন ব্যক্তির দৈনিক কতটুকু পানি পান করে তা নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর। বয়স, প্রতিদিনের কাজ, ডায়েট, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, জলবায়ু । আবার অনেকের বেঁচে থাকা ওষুধনির্ভর। তাদের ক্ষেত্রে পানি পানের নিয়মনীতি সুস্থ মানুষের চেয়ে আলাদা হবে। এ জন্য মেনে চলতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে দুই লিটার পানি পানের পরামর্শ দেন। এই দুই লিটার পানির মধ্যে অন্যান্য তরল পানীয় ও পানীয়যুক্ত খাবার থাকতে পারে। ওজন কমাতে যারা আগ্রহী, তাদের প্রতি পাউন্ড ওজনের অর্ধেক আউন্স পানি পানের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পর্যাপ্ত পানি পান করছেন বুঝবেন কীভাবে : পানি পর্যাপ্ত পান হচ্ছে কি না বোঝার সহজ উপায় নিয়মিত প্রস্রাব চেক করা। দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় একবার প্রস্রাব করা স্বাভাবিক। প্রস্রাব প্রতি ছয় ঘণ্টায় একবার ও রং গাঢ় হলে ধরে নিতে হবে পর্যাপ্ত মাত্রায় পানি পান করা হচ্ছে না। প্রতি ৩০ মিনিটে একবার ও স্বচ্ছ প্রস্রাব হলে ধরে নিতে হবে আপনি প্রচুর পানি পান করছেন।

ত্বকের পানিশূন্যতা বুঝতে হলে : ত্বকে পর্যাপ্ত পানি আছে কি না বোঝার জন্য মুখের ত্বকের কিছু অংশ কয়েক সেকেন্ড চিমটি কেটে ধরে থাকুন। ছেড়ে দেওয়ার পর তাড়াতাড়ি আগের অবস্থায় ফিরলে ধরে নিতে পারেন ত্বকে পর্যাপ্ত পানি আছে। আর স্বাভাবিক অস্থায় ফিরতে সময় বেশি লাগলে পানিশূন্যতার কারণ ধরে নিতে হবে।

পানি পানের বিকল্প : পর্যাপ্ত পানি পানে সমস্যা থাকলে বিকল্প উপায়ে শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করা যায়। অনেক ফল ও সবজি আছে, যা পানি বহন করে। এই সবজি ও ফল হাইড্রেশনের ভালো উৎস। ফলের মধ্যে যেমনÑ স্ট্রবেরির ৯১ শতাংশই পানি বহন করে। এ ছাড়া রয়েছে তরমুজ (৯২%), আঙুর (৯১%), পিচ (৮৮%), আনারস (৮৭%), কমলা (৮৭%) ও নারকেলের পানি (৯৫%)। সবজির মধ্যে রয়েছে শসা (৯৫%), টমেটো (৯৪%), ফুলকপি, পালংশাক, বাঁধাকপি ও কাঁচা মরিচ (৯২%), লেটুস (৯৬%)।

এ ছাড়া নিয়মিত স্যুপ খেলেও শরীরে পানির অভাব অনেকটা পূরণ হয়। তবে লবণের পরিমাণ রাখতে হবে সামান্য।

এড়িয়ে চলুন : প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব খাবার সামান্য পানি বহন করে। এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লবণ ও মিষ্টিজাতীয় উপাদান। কফি পানেও প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। শরীর পানিশূন্য হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় একই কারণে অ্যালকোহলও বাদ দিতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।