বরগুনায় রিফাত হত্যা

এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বি আকনসহ গ্রেপ্তার আরও ২

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. আল-কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকনসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার

মারুফ হোসেন। অন্যদিকে রিফাত হত্যায় জড়িত সন্দেহে গত বুধবার গভীর রাতে রাতুল সিকদার নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তবে এই দুজনকে কোথা থেকে ও কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয় তা তদন্তের স্বার্থে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।           

পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিফাত হত্যার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ছয় নম্বর আসামি রাব্বি আকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

অন্যদিকে গত বুধবার রাতে রিফাত হত্যায় জড়িত সন্দেহে রাতুল সিকদার নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। গ্রেপ্তারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতুলকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শক হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে জানান, রাতুল সিকদার বরগুনার কলেজ রোড এলাকার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। তাকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিফাত হত্যায় জড়িত অভিযোগে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এই মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৩ জনসহ মোট ৭ জন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে একদল যুবক বহু পথচারীর উপস্থিতিতে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তাকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিনই বিকেলে মারা যান রিফাত। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।