রাজধানীর কমলাপুরে ট্রেনের টয়লেটে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে থানায় বসে। ধর্ষণের শিকার হওয়া শিশুটিকে বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় আট ঘণ্টা পুলিশের জেরার মুখে বসিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে মামলা নেওয়ার পর গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) কর্মকর্তা এসআই রুশো বণিক বলেন, ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে মেয়েটি। তারপর রাত সাড়ে ১২টায় থানায় এসেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টায় মামলা রুজু করেছি, পাশাপাশি ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আদালতে পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে থানায়
ছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল শিকদার। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুলিশের ঢিলেমি ও ধীরগতির কাজের জন্য অসুস্থ ওই শিশু থানায় বসে থাকতে বাধ্য হয়েছে। পুলিশ চাইলে রাতেই শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠাতে পারত, কিন্তু তা না করে কালক্ষেপণ করেছে। এজাহারও লিখেছে দীর্ঘ সময় ধরে।
তবে, এসআই রুশো বণিক বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় মেয়েটি কমলাপুরে একটি ট্রেনের টয়লেটে ধর্ষণের শিকার হয়। সেখান থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে যায়। তারপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানায় আসে। মেয়েটির বক্তব্য শুনে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার (গতকাল) সকাল ৮টার দিকে মামলা রুজু করা হয়। তারপর মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এসব আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতেই দেরি হয়েছে। পুলিশ অযথা সময় নষ্ট করেনি। এ ছাড়া তার মা প্রথম দিকে মামলা করতে রাজি হচ্ছিলেন না। তাদের ঠিকমতো বুঝিয়ে মামলা নিতে নিতেই দেরি হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে মেয়েটিকে ভুল বুঝিয়ে রিকশাযোগে কমলাপুর নিয়ে যায় সম্রাট। এরপর যমুনা এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেনের টয়লেটে ধর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে মেয়েটির অস্বাভাবিক আচরণ দেখে যাত্রীদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পরে তাদের দুজনকেই থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।