ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলার সেনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তসহ কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নজরুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী অশালীন আচরণের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মহম্মদ জানান, মানুষ গড়ার কারিগর পিতৃতুল্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণকে কোনভাবেই খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তিনজন ছাত্রী ও ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিভাবকের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নজরুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তসহ কেন স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অষ্টম শ্রেণির অংকের শিক্ষক অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে নানা ছলচাতুরি করে প্রেম নিবেদনসহ কু-প্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন আচরণ করতেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর এক ছাত্রীকে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে বোরকা ও নেকাব খুলতে বাধ্য ও অশালীন আচরণ করার ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় ইতোপূর্বে শিক্ষক নজরুল ইসলাম কর্তৃক শ্লীলতাহানির শিকার আরও কয়েকজন ছাত্রী একই অভিযোগে মুখ খুলেন।

শিক্ষক নজরুল ছাত্রীদের অংকে ফেল করানোর হুমকি দেওয়ায় এত দিন তারা মুখ খোলেননি বলে অভিযোগ ছাত্রীদের।

এ ঘটনায় সেনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি উত্তম কুমার সাহা বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় কয়েক’শ অভিভাবক ও জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে বিচার দাবি করে স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি শান্ত করতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিলে তারা শান্ত হয়ে ফিরে যান।

উল্লেখ্য, এই শিক্ষক নজরুল ইসলাম সাত বছর পূর্বে একই কায়দায় বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ৫ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।