রিকশাকে বলা হয় ত্রিচক্রযান। তিন চাকায় যাত্রীবাহী এই রিকশার রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। বাংলাদেশে এই বাহনটির উদ্ভব না হলেও কালের বিবর্তনে রিকশার শহর হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে রাজধানী ঢাকা। যদিও যানজট নিরসনে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোকে রিকশামুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে টানা অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকরা। রিকশার ইতিহাস ও বাংলাদেশে এর বিস্তার নিয়ে লিখেছেন আন্দালিব আয়ান
আবিষ্কারের গোড়ার কথা
জাপানি শব্দ ‘জিন্ রিকিশা’ থেকে রিকশা শব্দটির উদ্ভব। জিন্ রিকিশা’র বাংলা অর্থ দাঁড়ায় মনুষ্যবাহী যান। ধারণা করা হয়, রিকশার আবিষ্কারও হয়েছিল জাপানে। তবে, এ নিয়ে নানা মতভেদও রয়েছে। জানা যায়, ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুই (১৬৩৮-১৭১৫) প্রথমবারের মতো সপ্তদশ শতকে মানুষচালিত ভ্রাম্যমাণ কেদারার প্রচলন করেছিলেন। অনেকে বলেন, রিকশার উদ্ভব ও বিকাশ সেখান থেকেই। আলবার্ট টলম্যান নামে এক আমেরিকানের কথাও বলা হয়, ১৮৪৮ সালে তিনিই নাকি প্রথম রিকশা বানান।
আরেকটি উৎস থেকে জানা যায়, জোনাথান স্কোবি নামে এক আমেরিকান মিশনারি থাকতেন জাপানে। কিন্তু অসুস্থ হয়ে তার স্ত্রী চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন। এরপর ১৮৬৯ সালের গোড়ার দিকে স্কোবি একটি চাকাযুক্ত যান আবিষ্কার করেন। রিকশাসদৃশ এই যানে তিনি তার স্ত্রীকে বসিয়ে জাপানের ইয়োকহামা শহরে ঘুরে বেড়াতেন।
তবে, সর্বজনস্বীকৃত রিকশার আবিষ্কারক হিসেবে ইয়োসুক, সুজুকি টকুজিরো ও কসুকেÑ এই তিন জাপানি ঘোড়াগাড়ি নির্মাতাকেই স্মরণ করা হয়। ১৮৬৭ সালে তারা রিকশা তৈরি করেন। ১৮৭০ সালে জাপানের টোকিও সরকার ইজুমি ইয়োসুকি, সুজুকি টোকুজিরো এবং তাকায়ামা কোসুকিকে রিকশা তৈরি ও বিক্রির অনুমতি দেয়। সে সময় রিকশা চালানোর লাইসেন্সে এই তিনজনের মধ্যে যে কোনো একজনের স্বাক্ষর লাগত।
দেশে-দেশে বিস্তার
জাপানে আবিষ্কৃত হলেও অন্যান্য দেশও এই যানটিকে ঘিরে কৌতূহলী হয়ে ওঠে। ১৮৭৪ সালে চীনারা জাপান থেকে প্রথমবারের মতো রিকশা আমদানি করে। ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে স্বল্প খরচের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহন ছিল রিকশা। তবে, প্রযুক্তির বিকাশের ফলে ১৯৩০ সালের আগেই জাপান এবং ১৯২০-এর পরপরই চীনে রিকশার প্রচলন কমতে থাকে। মোটরগাড়ি আর ট্রেনের আগমন রিকশার মূল্য কমিয়ে দেয়। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আবারও রিকশার কদর বেড়ে গিয়েছিল। ততদিনে চীন-জাপানের বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে রিকশার জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছিল। ১৯২০ সালের দিকে সিঙ্গাপুরে রিকশার পরিমাণ ছিল আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার। মাত্র এক দশকের ব্যবধানেই সেখানে রিকশার সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। ভারতে প্রথমবারের মতো রিকশা এসেছিল ১৮৮০ সালের দিকে। সে সময় দেশটির সিমলাতে চীনা বণিকরা প্রথমবারের মতো রিকশা নিয়ে আসে। এর প্রায় দুই দশক পর অর্থাৎ ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে রিকশার প্রচলন শুরু হয় কলকাতা শহরে। কলকাতার রাস্তায় হাতে টানার রিকশা একটি ঐতিহ্যবাহী যান। শুরুর দিকে ভারতে শুধু পণ্য পরিবহনের জন্য রিকশা ব্যবহৃত হতো। তবে, ১৯১৪ সালে সরকারের অনুমতি নিয়ে চীনারা রিকশায় করে যাত্রী বহন শুরু করে। ধীরে ধীরে যাত্রী বহনের এই প্রক্রিয়া এশিয়ার প্রায় সব বড় দেশেই ছড়িয়ে পড়ে। শুধু এশিয়া নয়, আফ্রিকা এমনকি ইউরোপেও পৌঁছে যায় রিকশা।
বিভিন্ন দেশে রিকশা বিভিন্ন নামে পরিচিত। চীনারা রিকশাকে বলে সানলুঞ্চে, কম্বোডিয়ায় এর নাম সিক্লো, মালয়েশিয়ায় বেকা আর ফ্রান্সে সøাইকো। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি পেডিক্যাব নামে পরিচিত।
যেভাবে আসে বাংলাদেশে
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রিকশা এসেছিল ঠিক ১০০ বছর আগে, ১৯১৯ সালে। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে রিকশা নামে আজব এই যানটির সঙ্গে বাংলাদেশে সবার আগে পরিচয় ঘটেছিল চট্টগ্রামের মানুষের। সে বছর মিয়ানমার থেকে আনা হয়েছিল প্রথম রিকশাটি। তবে ঢাকায় প্রথম রিকশা নিয়ে আসা হয় কলকাতা থেকে ১৯৩০ সালে। ১৯৩৮ সালের দিকে মাল আনা-নেওয়ার কাজে পাট ব্যবসায়ীরা নেত্রকোনা এবং নারায়ণগঞ্জে রিকশার প্রচলন করেছিল।
শুরুর দিকে, মাল আনা-নেওয়ার কাজেই মূলত রিকশা ব্যবহার করা হতো। মানুষ সে সময় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, পালকি এবং শহরের খালে নৌকা ব্যবহার করে যাতায়াত করত। তাই মানুষ পরিবহনে প্রথম দিকে ততটা জনপ্রিয় ছিল না রিকশা। যদিও নতুন এই বাহনটিকে ঘিরে ঢাকার অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল জেগে উঠেছিল।
পৌরসভার রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৪১ সালে ঢাকা শহরে রিকশা ছিল মোট ৩৭টি। ১৯৪৭ সালে ৬ বছরের ব্যবধানে এই শহরে রিকশার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮১টি। সে সময় ঢাকায় প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস ছিল। ১৯৯৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা শহরের জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৮০ লাখে। ততদিনে রিকশাও এই শহরের একটি জনপ্রিয় বাহনে পরিণত হয়েছে। সে সময় ঢাকায় রিকশা ছিল প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার। ঢাকার বাইরেও ততদিনে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রধান বাহন হয়ে ওঠে রিকশা। ১৯৯৮ সালের দিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় রিকশা ছিল প্রায় পৌনে তিন লাখ এবং গ্রামাঞ্চলে ছিল প্রায় ৯১ হাজার।
গিনেস বুকে রিকশার শহর ঢাকা
রিকশার জন্মস্থান জাপানে এখন আর রিকশার প্রচলন নেই। সেখানে রিকশা দেখা যায় কেবল জাদুঘরে। পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশেও রিকশার প্রচলন অনেক কমে গেছে। তবে, বাংলাদেশে রিকশার ব্যবহার উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। অবস্থা এমন যে, রিকশা বলতে বাইরের দেশের মানুষ এখন এটিকে বাংলেদেশি যান হিসেবেই চেনে। শুধু তাই নয়, রাজধানী ঢাকা ‘রিকশার শহর’ হিসেবেও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে। এই পরিচিতির সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হলো গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে ঢাকা শহরের নাম ওঠা। গিনেস বুকের ২০১৫ সালের সংস্করণে ১৮৮ পৃষ্ঠায় ‘পৃথিবীর সর্বাধিক রিকশা চলে যে শহরে’ শিরোনামে ঢাকার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়, ঢাকায় প্রায় পাঁচ লাখ রিকশা চলাচল করে। যদিও ঢাকায় রিকশার প্রকৃত সংখ্যাটি কত তা সঠিক করে বলতে পারে না কোনো কর্র্তৃপক্ষই। কারণ ১৯৮৬ সালের পর নতুন করে আর কোনো রিকশাকেই নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। যদিও শহরে রিকশা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। বেসরকারি সূত্রমতে, রাজধানীতে প্রায় ১০ লাখের মতো রিকশা রয়েছে। আর একেকটি রিকশা দিনে-রাতে মিলিয়ে একাধিক চালক ব্যবহার করছে। ফলে, ঢাকায় রিকশাচালকের সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবেই ১৫ থেকে ২০ লাখের মধ্যে। এসব চালকের পরিবার মূলত রিকশা থেকে আয়ের ওপরই নির্ভরশীল।
সম্প্রতি ঢাকার জ্যাম কমানোর জন্য রিকশা উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে রিকশাচালকরা। তারা রাজধানীর বেশ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। দাবি ওঠে, রিকশা বন্ধ না করে বরং এর জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করার জন্য। কারণ রাজধানীর মানুষের প্রধান পরিবহন এখনো রিকশা।
রিকশার বিবর্তন
সাধারণত দুইজন যাত্রী নিয়ে পায়ে প্যাডেল দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায় রিকশা চালকরা। তবে রিকশার জন্মস্থান জাপানে হাতেটানা রিকশার প্রচলন ছিল। এক্ষেত্রে রিকশার চাকা থাকত দুটি। দুই পাশ থেকে দুটি লৌহদণ্ড রিকশার সামনে গিয়ে মিশত। আর এই দণ্ড ধরে যাত্রীদের টেনে নিয়ে যেত রিকশা। পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় এখনো এই ধরনের রিকশার প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশে অবশ্য শুরু থেকেই প্যাডেল দেওয়া রিকশার প্রচলন হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, শুরুর দিকে কিছু হাতেটানা রিকশা বাংলাদেশে নিয়ে আসা হলেও এ ধরনের যানে হাতে টেনে হেঁটে হেঁটে মানুষ পারাপার করতে রাজি ছিলেন না অনেকে। ফলে, বাংলাদেশের রিকশা মূলত প্যাডেলসহ রিকশা।
হাতে টানার চেয়ে দুই পায়ের সাহায্যে প্যাডেল দিয়ে চলা রিকশা দ্রুতগামী এবং কষ্ট কম। তবে, এই কষ্ট কম আসলে কম কিছু নয়। কারণ প্যাডেল দিয়ে রিকশা চালাতেও প্রচুর শ্রম দিতে হয়। এই শ্রম কমাতে সাম্প্রতিক সময়ে এক ধরনের বিবর্তিত রিকশার প্রচলন শুরু হয়েছে। নতুন এই রিকশাকে বলা হয়, অটো রিকশা। এই রিকশা চালাতে পায়ে প্যাডেলের প্রয়োজন নেই, একটি বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত ব্যাটারি যাত্রীদের টেনে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে রিকশা চালক সামনের আসনটিতে বসে শুধু রিকশাটি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঢাকায় অন্তত ১২ থেকে ১৫ হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা রয়েছে। এই ধরনের রিকশা প্যাডেলচালিত রিকশার চেয়ে দ্রুতগামী। তাই দুর্ঘটনার হারও বেশি।
রিকশা ও ঐতিহ্য
কালের বিবর্তনে রিকশা যেন বাংলাদেশেরই একটি বাহনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ বছরের ব্যবধানে এটি এখন দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি যান। শুধু তাই নয়, রিকশাকেন্দ্রিক একটি নিজস্ব ঐতিহ্য ও শিল্প গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে রিকশার পেছনে যেসব চিত্রকর্ম দেখা যায়, তা বাংলাদেশের একান্তই নিজস্ব শিল্প।
রাস্তায় নামানোর আগে একটি রিকশাকে সুন্দর করে সাজানো হয়। রিকশা সজ্জার দুটি ধরন রয়েছে। একটি এর অঙ্গসজ্জা, অন্যটি রিকশাচিত্র। অঙ্গসজ্জা হলো রিকশার কাঠামোর বিভিন্ন অংশকে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো। রিকশাচিত্র হচ্ছে পাতলা টিনের পাতের ওপর আঁকা চিত্র, যা পরে রিকশার বডির পেছন দিকে বিশেষভাবে জুড়ে দেওয়া হয়। এটিই রিকশার ছবি ও নকশার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকে বাংলাদেশে রিকশা চিত্রের একটি ধারা গড়ে ওঠে। বিষয়বস্তু ও রঙের ব্যবহারের ক্ষেত্রে রিকশাচিত্র সরাসরি সিনেমার ব্যানার পেইন্টিংয়ের প্রভাবযুক্ত। বিভিন্ন সময় যখনই যে সিনেমাটি ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় হয়েছে, তখনই তার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এসেছে রিকশাচিত্রের বিষয় হিসেবে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নিজস্ব সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বেগবান হলে অনেক সিনেমার গায়ে ‘হিট’ তকমা লেগে যায়। ফলে দেশের নায়ক-নায়িকারা জনপ্রিয়তা পেতে থাকেন। এসব জনপ্রিয় বা ‘হিট’ নায়ক-নায়িকার ছবি আঁকা শুরু হয় রিকশাচিত্রে। যেমন নিশান, চোর, ডাকু সুলতান, বেদের মেয়ে জোছনা, লাইলি-মজনু ইত্যাদি চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকাদের আঁকা হয়েছে রিকশাচিত্রে।
নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে বিদেশি, বিশেষত ইংরেজি ছবি দেদার চলতে থাকে। এ সময় বিদেশি অভিনেতা-অভিনেত্রীর রংবেরঙের পোস্টার বাজারে বেশ সহজলভ্য হয়ে ওঠে। মূলত এই সময় থেকে ব্যাপকভাবে বিদেশি ছবির নায়ক-নায়িকা রিকশাচিত্রের অনুষঙ্গ হিসেবে আসতে থাকেন। যেমন র্যাম্বো বা ব্রুস লি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিখ্যাত বিদেশি সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ছবিও রিকশাচিত্রীরা এঁকেছেন। যেমন ‘টাইটানিক’ সিনেমার টাইটানিক জাহাজ এবং জাহাজের সামনে দাঁড়িয়ে দুই বাহু মেলে দেওয়া নায়ক-নায়িকার জনপ্রিয় দৃশ্য।
রঙের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সিনেমার ব্যানার পেইন্টিং গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে রিকশাচিত্রকে। উজ্জ্বল রঙে আঁকা সিনেমার ব্যানারগুলো খুব সহজেই আকৃষ্ট করত মানুষকে। এতে এর একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া হতো দর্শকদের মনে। বাংলাদেশের প্রবীণ রিকশাচিত্রীরা এসব ব্যানার দেখে তাদের শৈশব ও কৈশোর পার করেছেন। সংগত কারণে সিনেমার উজ্জ্বল রঙের ব্যানার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তাদের পরবর্তী জীবনের রিকশাচিত্র আঁকার ক্ষেত্রে। উজ্জ্বল রঙের সিনেমার ব্যানার চিত্রের ব্যাপক প্রচলন, গুরু-শিষ্য পরম্পরা, সিনেমার ব্যানারচিত্রীদের রিকশাচিত্রী হয়ে ওঠা ইত্যাদি কারণে রিকশাচিত্রে সিনেমার ব্যানার চিত্রের প্রভাব পড়েছে।
গ্রামীণ দৃশ্যকল্প, ফুল, লতাপাতা, পাখি ইত্যাদি রিকশাচিত্রের আদি বিষয়। তবে বিভিন্ন সময় নানান কারণে রিকশাচিত্রের বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি এসেছে রিকশাচিত্রের বিষয় হিসেবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপসাগরীয় এবং আফগান যুদ্ধ, ৯/১১-এর টুইন টাওয়ার ধ্বংস। এসব ঘটনার সূত্র ধরে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এবং ওসামা বিন লাদেনের প্রতিকৃতি এসেছে রিকশার পেছনে। টুইন টাওয়ারের একটিতে ধোঁয়ার কুণ্ডলি, অন্যটিতে আঘাত হানতে যাওয়া উড়োজাহাজÑ ৯/১১-এর স্মৃতিবাহী এই দৃশ্যটিও রিকশাচিত্রে পাওয়া যায়।