নিক্কেই এশিয়ান রিভিউয়ের প্রতিবেদন

এফডিআইয়ের জন্য অনুকূল বাংলাদেশ

দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) অবদান রাখছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণ বাজারের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে।

গত শুক্রবার নিক্কেই এশিয়ান রিভিউয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বয়স ২৫ বছরের কম। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটিকে একটি শক্তিশালী ক্রমবর্ধমান বাজার হিসেবে দেখছে। ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইউএনসিটিএডি) জানিয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে এফডিআইয়ের পরিমাণ ৬৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ২০১১ সালের চেয়ে এটা তিন গুণ বেশি।

জাপান টোব্যাকো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিগারেট নির্মাতা আকিজ গ্রুপের কোম্পানি ঢাকা টোব্যাকোকে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। অন্যান্য প্রধান বিনিয়োগের মধ্যে চীনের সাংহাই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫ শতাংশ স্টেক কিনেছে। এটি বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের একটি অংশ। এ ছাড়া চীনের আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিংয়ের কোম্পানি আলিপে মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি বিকাশের ২০ শতাংশ স্টেক কিনেছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে মেট্রোরেল, সেতু, সুড়ঙ্গ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। এতে শত শত কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এর অধিকাংশই এসেছে চীন ও জাপান থেকে। দেশজুড়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এফডিআই আকর্ষণের অন্যতম প্রধান কৌশল। এতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই জাপানের সুমিতোতো, সোজিৎজ, নিপ্পন স্টিল, শিনওয়ার মতো কোম্পানিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশে ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা) জানিয়েছে, সোজিৎজ একাই মিরসরাইয়ে একটি বেসরকারি বন্দর ও শিল্প পার্ক নির্মাণে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর বিপরীতে ১৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন   কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সুযোগ-সুবিধার দেশ। আপনি চাইলে এখানে বিনিয়োগ করতে পারেন।’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। এফডিআইয়ে বাংলাদেশ ভিয়েতনামের চেয়ে পিছিয়ে। দেশটির এফডিআইয়ের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশ মিয়ানমার, ইথিওপিয়া ও কম্বোডিয়ার চেয়ে এগিয়ে আছে।