আগামীকাল সোমবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাতটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চারটি, জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের দুটি ও রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (রাজউক) একটি প্রকল্প রয়েছে। এ সাতটি প্রকল্পে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০টি ফ্ল্যাট।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে রাজধানীর ইস্কাটনে ‘সিনিয়র সচিব, সচিব ও গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের’ জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩১৩ কোটি টাকা। ২০তলা তিনটি ভবনে নির্মিত হয়েছে ১১৪টি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট; যার প্রতিটির আয়তন ৩ হাজার ৪৮৯ বর্গফুট। আধুনিক
সুযোগ-সুবিধা রেখে তৈরি করা এসব ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের জন্য কম্পাউন্ডের মধ্যে রয়েছে জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুল ও কমিউনিটি ভবন। নিজস্ব বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ, নিজস্ব স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোলার প্যানেলের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া পূর্ত অধিদপ্তর রাজধানীর বেইলি রোডে মন্ত্রীদের জন্য ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট-৩’ নামে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনে ১ হাজার ৬৪টি ফ্ল্যাট ও মিরপুরের পাইকপাড়ায় ৬০৮ আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।
সিনিয়র সচিব, সচিব ও গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের জন্য অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম সোহরাওয়ার্দী গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টায় আমাদের এ প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ করেছি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, লালমাটিয়া নিউ কলোনিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের সাতটি জরাজীর্ণ ভবনের স্থলে ১৩০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৫ সালের জুনে শুরু হওয়া এ প্রকল্প শেষ হয়েছে গত জুন মাসে। এ প্রকল্পে ১৪তলা একটি ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুট আয়তনের ২৬টি, ১ হাজার ১১৫ বর্গফুটের ৩৯টি, ১ হাজার বর্গফুটের ৬৫টিসহ ১৩০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। একই এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৩২টি (সংশোধিত ১৫৩টি) ফ্ল্যাট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৪ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এ প্রকল্পও শেষ হয়েছে চলতি বছরের জুনে। এই প্রকল্পের আওতায় ১০তলা ১০টি ভবনে ১৫৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘বেগুনবাড়ী খালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মালিকদের পুনর্বাসন ও বিক্রয়ের লক্ষ্যে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ’ প্রকল্পও শেষ হয়েছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। এই প্রকল্পে ১৫তলা দুটি ভবনে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের ৫৬টি ও ১ হাজার ৯০ বর্গফুটের ৫৬টি করে ১১২টি ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে। এ প্রকল্পটিও প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।
তারা আরও জানান, রাজধানী ঢাকায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করেন। তাদের বেশির ভাগই সরকারি আবাসনের সুবিধা পাচ্ছেন না। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের ব্যবস্থা বাড়াতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয় মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ২৫টি প্রকল্পে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ৯ হাজার ১৯০টি ফ্ল্যাট বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। হাতে নেওয়া হয়েছে আরও ১০ হাজার ৬৭৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প। সব মিলিয়ে ২০২২ সালের মধ্যে ঢাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন চাহিদার প্রায় ২২ শতাংশ পূরণ হবে।
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের হাতে বেশ কিছু আবাসন প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সংস্থার সাতটি প্রকল্প সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। আশা করছি সরকারের আবাসনব্যবস্থা নিয়ে যে টার্গেট রয়েছে তা আমরা ধীরে ধীরে পূরণ করতে পারব।’