দেশের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের তাগিদ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদার করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য।
বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে তারেক রহমান যোগ দেন জানিয়ে স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে
বিভাগীয় সমাবেশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে সমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
এদিকে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে ছেড়ে দেওয়া পানির ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে বন্যাপীড়িত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটিকে সক্রিয় করে দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি দেশের অর্থনীতি, স্বাধীনতার ওপর বড় রকমের চাপ সৃষ্টি করলেও তা সমাধানে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারছে না। তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের জনগণ আশা করেছিল প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে এ বিষয়ে পজিটিভ কোনো সাড়া পাওয়া যাবে; বরং দেখা গেছে যে চীন তার আগের অবস্থানেই আছে। এ বিষয়ে বিএনপি কূটনীতিকদের ব্রিফ করবে।
তিনি বলেন, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে, বিশেষ করে ব্যাংকিং সিস্টেমটা একেবারে ভেঙে পড়েছে। তিন দিন আগে পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীদের ২৩৬ কোটি টাকা ফেরত না দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে অবসান করেছে। সেটা নজিরবিহীন ঘটনা। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমানতকারীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পুঁজিবাজারের আমানতকারীসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি শুরু হবে শিগগিরই। ১৮ তারিখ বরিশাল, ২০ তারিখ চট্টগ্রাম ও ২৫ তারিখ খুলনায় সমাবেশ এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ৩০ তারিখের মধ্যে বাকি বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করতে পারব।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল এবং সারা দেশে সংঘটিত নারী-শিশু ধর্ষণ-হত্যা-গুমের বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যে আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি দেশবাসীর কাছে তুলে ধরবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন নিয়ম : স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন নিয়ম চালু করেছে বিএনপি। বৈঠকের আগের দিন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে আলোচ্যসূচিসংবলিত কাগজপত্রসহ একটি ফোল্ডার বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে পাঠানো হয়। তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসার পর এ নিয়ম চালু হলো। গতকালই সব সদস্যকে দলীয় মনোগ্রামসংবলিত বড় ফোল্ডার হাতে বৈঠকে ঢুকতে দেখা গেছে।
গতকাল বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় সন্ধ্যা পৌনে ৭টায়। এতে মির্জা ফখরুল ছাড়াও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান। স্কাইপেতে যোগ দেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর আগে গত ২৯ জুন ও ৫ জুলাই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ছাত্রদলের চলমান সংকট নিরসন ও বর্তমান রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকালের বৈঠক হয়।