দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ভিন্নধর্মী ২ টাকার ব্যাংকের ফান্ড থেকে সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা করা হয়েছে।
রবিবার ব্যাংকের ফান্ড থেকে সুবিধাবঞ্চিত ৫০ শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গত জানুয়ারি মাসে সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় ২ টাকার ব্যাংক।
বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগে ১৩টি শ্রেণি শাখার ক্লাস ক্যাপ্টেনকে ব্যাংক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাংক ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার।’
ব্যাংকটিতে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সূচনা রায় পূজাকে গভর্নর নির্বাচিত করা হয়। সূচনা রায় পূজা জানান, ব্যাংকটিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ টাকা করে জমা দেয়। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চাহিদামতো সেই টাকা তুলতেও পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার রায় বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেনের পরিকল্পনায় ব্যাংকটি চালু করা হয়। ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার পর শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ব্যাংকটির ফান্ড বৃদ্ধি পায়। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার লক্ষে ২ টাকার ব্যাংক ফান্ড থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছে।
সহকারী শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ২ টাকা সার্ভিস চার্জ দিয়ে ব্যাংকটির গ্রাহক হতে পারে। সারা বছর টাকা জমা রেখে পুনরায় সেই টাকা তুলতেও পারে। এই ২ টাকার সার্ভিস চার্জ থেকে একটি ফান্ড করা হয়েছে। এই ফান্ডটি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
২ টাকার ব্যাংক কর্তৃক সহযোগিতা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দিনাজপুরের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল, উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা আশরাফুল হক প্রধান প্রমুখ।
সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘শুধু আইনের যথাযথ প্রয়োগেই পারে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিজয় লাভ করে। আয়োজন শেষে অতিথিরা বৃক্ষ রোপণ করেন।